


নয়াদিল্লি: ‘মা...বাই। আর বাড়ি ফেরা হবে কি না জানি না।’ উড়ানের আগে এটুকু জানিয়ে বেরিয়ে পড়েছিলেন তরুণী পাইলট। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ চলছে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় আছড়ে পড়ছে ক্ষেপণাস্ত্র। এই পরিস্থিতিতে মেয়ে বাড়ি ফিরবে তো? চোখের জলে, উৎকণ্ঠায় অপেক্ষায় ছিলেন মা। কিন্তু কিছু করার নেই। রেসকিউ মিশনে অংশ নিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরশাহির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের ২৩ বছরের পাইলট দীপিকা আধানা। সাফল্য পায় উদ্ধার অভিযান। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে ১৬৯ ভারতীয়কে নিরাপদে দিল্লিতে ফিরিয়ে আনেন ফরিদাবাদের মেয়ে দীপিকা। তাঁর এই সাহসিকতায় মুগ্ধ গোটা দেশ। আঁচলে চোখ মুছে মা জানিয়েছেন, ‘প্রতি মুহূর্তে ভয় করছিল। অবশেষে ও ফিরেছে। সবাইকে ফিরিয়ে এনেছে। আমি খুব খুশি।’
সপ্তাহ দুয়েক হতে চলল। মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে এখনও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইরান। পালটা জবাব দিচ্ছে ইজরায়েল ও আমেরিকাও। এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম এশিয়ার বহু দেশে আকাশসীমা বন্ধ। বিপর্যস্ত বিমান পরিষেবা। তাই নানা জায়গায় বহু যাত্রী আটকে পড়েছেন। সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে আটকে পড়া এমনই ১৬৯ জন ভারতীয়কে উদ্ধার অভিযানে ডাক পান দীপিকা। ৬ মার্চ সকালে ১০টা ১৫ মিনিট নাগাদ হঠাৎ নির্দেশ আসে। গন্তব্য সংযুক্ত আরব আমিরশাহির রাস অল খাইমা বিমানবন্দর। দীপিকার কথায়, ‘আমার এক সহকর্মীর যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু উড়ানের ঘণ্টা দুয়েক আগে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিমানে আমি ছাড়াও ছিলেন ক্যাপ্টেন জসবিন্দর কাউর ও চার মহিলা বিমানকর্মী। ওইদিন দুপুর দু’টোর দিকে রাস অল খাইমা বিমানবন্দরে পৌঁছই। বিমানবন্দর চত্বর বেশ শান্ত ছিল। বিকেল সাড়ে তিনটের দিকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেয় বিমানটি। টেক-অফের সময় কিছুক্ষণের জন্য এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। একটু ভয় পেয়েছিলাম। তারপর আর কোনও ব্যাঘাত ঘটেনি।’