


নর্থ ইস্ট ইউনাইটেড- ০ : মোহন বাগান- ১
(রবসন)
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গোড়ালি সমান জল। একই অবস্থা সাইডলাইনে। মুষলধারে বৃষ্টিতে ঝাপসা চারপাশ। ফুটবল নয়, ওয়াটারপোলো খেলা যাবে নিশ্চিন্তে। গঙ্গায় বান এলে এভাবেই জলে ডুবে যায় ময়দানের একাংশ। রবিবার প্রবল বৃষ্টিতে গুয়াহাটিতে মোহন বাগান বনাম নর্থ ইস্ট ম্যাচও এক ঘণ্টার উপর বন্ধ রইল। বিরতিতে পেড্রো বেনালির দলের বিরুদ্ধে তখন ১-০ গোলে এগিয়ে মোহন বাগান। খেলা শেষ হবে তো? সবুজ-মেরুন সমর্থকদের মুখে একরাশ উদ্বেগ। জল বার করতে বালতি, গামলা হাতে অক্লান্ত পরিশ্রম করলেন মাঠকর্মীরা। শেষপর্যন্ত বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে নর্থ ইস্টকে বশ মানিয়ে লিগ টেবিলে শীর্ষে পৌঁছে গেল লোবেরা ব্রিগেড। ৯ ম্যাচে মোহন বাগানের পয়েন্ট ২০। আপাতত মুম্বইয়ের (৯ ম্যাচে ১৮) চেয়ে ২ পয়েন্টে এগিয়ে মনবীররা।
অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে শুরুতেই গোল তুলে নিতে চেয়েছিলেন লোবেরা। সেই লক্ষ্যে পুরোপুরি সফল তিনি। ৫ মিনিটেই দলকে লিড এনে দেন রবসন। এক্ষেত্রে ডানদিক থেকে চমৎকার ব্যাক মাইনাস করেছিলেন সাহাল। জোরাল শটে জাল কাঁপান অরক্ষিত রবসন (১-০)। পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে পরিবর্ত হিসাবে নেমে নজর কেড়েছিলেন সাহাল। এদিনও অনবদ্য অ্যাসিস্ট করলেন তিনি। এই পর্বে কামিংস, লিস্টন, অনিরুদ্ধ থাপাদের দাপটে মাঝমাঠে রাজত্ব করল লোবেরা ব্রিগেড। লিস্টনরা বিপজ্জনক আক্রমণ তুলে আনলেও প্রতিপক্ষের পায়ের জঙ্গলে ফিনিশ হল না। কিন্তু সময় গড়ানোর সঙ্গেই প্রবল বৃষ্টিতে পাসিং ফুটবলের দফারফা। মাঝমাঠ ও ফরোয়ার্ড লাইনের মাঝে দূরত্ব বাড়ল। এরইমধ্যে ৩৩ মিনিটে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ নষ্ট করলেন রবসন। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারের শট পোস্ট ঘেঁষে বাইরে যায়। বিরতির আগে ঝাপটা দিল নর্থ ইস্টও। প্রতি-আক্রমণে পার্থিক গোগোইয়ের শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
বৃষ্টির মাঠে সফট ফুটবল চলে না। পরিস্থিতি বুঝে রবসন ও কামিংসকে তুলে যথাক্রমে মনবীর ও টাংরিকে নামায় মোহন বাগান থিঙ্কট্যাঙ্ক। কিন্তু জলকাদায় পাসিং ফুটবল খেলতে যাওয়া যুক্তিহীন। ময়দানি ‘বাংলা’ ফুটবল দরকার। স্প্যানিশ কোচ হয়তো তা বুঝলেন না। শেষ পর্বে মেহতাব শরীর ছুড়ে নিশ্চিত গোল না বাঁচালে বিপদ ছিল। এরইমধ্যে ফের তুমুল বৃষ্টি শুরু। মাঠের বেশ কিছু জায়গায় জল জমতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে খেলা চালিয়ে গেলেন রেফারি। যা দেখে অনেকেই বিস্মিত। ম্যাচ বাতিল হলে নিয়ম কী? জানা যায়, ৬০ মিনিট পর্যন্ত কোনো দল ২ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় ম্যাচ ভেস্তে গেলে, সেই দল পুরো পয়েন্ট পাবে। তবে ১ গোলের ব্যবধান থাকলে পয়েন্ট ভাগাভাগি ছাড়া উপায় নেই। প্রবল বৃষ্টিতে শেষ বাঁশি বাজতেই স্বস্তি ফেরে মোহন বাগানে। অন্যদিকে, রেফারির সঙ্গে তর্ক জুড়ে লাল কার্ড দেখেন নর্থ ইস্ট কোচ।
মোহন বাগান: বিশাল, অভিষেক, মেহতাব, আলড্রেড, শুভাশিস, অনিরুদ্ধ, সাহাল (অভিষেক), লিস্টন (কিয়ান), রবসন (মনবীর), কামিংস (টাংরি)) ও ম্যাকলারেন (অময়)।