নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: রাজ্যে সরকার বদল হতেই বদলে গিয়েছে কাজের ধারা। তার জেরে বিপাকে পড়েছেন হুগলির মগরা ১ নম্বর পঞ্চায়েতের বাসিন্দারা। বর্ষার মরশুমে রাস্তা থেকে নিকাশির সমস্যায় জেরবার গ্রামের বাসিন্দারা। কোথাও কোথাও বিস্তীর্ণ এলাকা অন্ধকারে ডুবে থাকছে। কোথাও আবার পানীয় জলের সংকট। এসবের মূলে আগের সরকারের ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান’ প্রকল্পের অসম্পূর্ণ কাজ। অভিযোগ, ওই প্রকল্পে কাজের জন্য ভাঙা হয়েছিল পুরানো রাস্তা, খোঁড়া হয়েছিল নালা। কিন্তু নতুন সরকারের আমলে এই খাতে বরাদ্দ না হওয়ায় সেসব কাজ থমকে গিয়েছে। ফলে রাস্তা, নিকাশিনালা, আলো, পানীয় জল নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন এলাকার বাসিন্দারা।
স্বাভাবিকভাবেই বর্ষা মরশুমে সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। গত সাতদিনে পঞ্চায়েতের অফিসে অন্তত দশটি অভিযোগ গণস্বাক্ষর সহ জমা পড়েছে। ক্ষোভের বহর থেকে উদ্বেগে আছেন পঞ্চায়েতের কর্তারা। মগরা ১ নম্বর পঞ্চায়েতের উপপ্রধান রঘুনাথ ভৌমিক বলেন, ওই প্রকল্পের কাজ শেষ হয়ে গেলে সমস্যা হতো না। কিন্তু রাস্তা, নালা, নিকাশি, আলো, জল সরবরাহের মতো কাজগুলি অর্ধসমাপ্ত হয়ে পড়ে রয়েছে। ফলে সমস্যা বেড়েছে। নাগরিকদের ক্ষোভ হাওয়াটাই স্বাভাবিক। রাজ্য সরকার টাকা বরাদ্দ না করলে আমরাও কাজ করতে পারছি না।
মগরা ১ নম্বর পঞ্চায়েতের বাসিন্দা রাজু দাস বলেন, রাস্তা থেকে নিকাশিনালা সবই বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে। বর্ষার মরশুমে তো বটেই, প্রাত্যহিক কাজেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে আমদের। মগরা জয়পুরের পাম্প কলোনির বাসিন্দা শংকর সরকার বলেন, আমাদের পাড়ায় একটি জলপ্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। আমরা আশায় বুক বেঁধেছিলাম। প্রকল্পের কাজ অর্ধেক হয়ে পড়ে রয়েছে, এখন শুনছি টাকা নেই। ওই প্রকল্প অনুমোদন হয়েছিল বলে আমরা অন্য প্রকল্প পাইনি। এনিয়ে বিজেপির হুগলি-চুঁচুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় বলেন, পূর্বতন সরকারের পাপে নাগরিকদের ভুগতে হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসন ও সরকারের সঙ্গে আলোচনা করব।
বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়পুর গ্রামে নিকাশি ও রাস্তা বেহাল হয়ে আছে। ওই সংসদ এলাকার পাম্প কলোনির একাংশে রাস্তার আলো আধুনিকীকরণের কাজ শুরু হয়েছিল। ফলে, পুরানো আলো বিদায় নিয়েছে কিন্তু নতুন আলো লাগেনি। ফলে, গোটা এলাকা অন্ধকারে ডুবে রয়েছে। সুকান্তপল্লি সংসদের মাঠপাড়ায় নিকাশিনালা সংরক্ষণের কাজ আটকে গিয়েছে। সব মিলিয়ে পঞ্চায়েত জুড়ে নাগরিকদের প্রাত্যহিক জীবনে বিরাট সংকট দেখা দিয়েছে।