Bartaman Logo
১২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

১৪ বছর পরও ভাঙা রেকর্ড মোদির, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই না মতুয়া-নমঃশূদ্রদের নাগরিকত্ব

ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশ থেকে আসা মতুয়া শরণার্থী, নমঃশূদ্র ও অন্যান্য হিন্দু উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক

১৪ বছর পরও ভাঙা রেকর্ড মোদির, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই না মতুয়া-নমঃশূদ্রদের নাগরিকত্ব
  • ১২ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: ধর্মীয় কারণে বাংলাদেশ থেকে আসা মতুয়া শরণার্থী, নমঃশূদ্র ও অন্যান্য হিন্দু উদ্বাস্তুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রক সংস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বরের আগে যে বা যাঁরা বাংলাদেশ থেকে এপারে এসেছেন, সমস্ত শর্তপূরণ করে সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট’

Advertisement

এর (২০১৯) এর মাধ্যমে নাগরিকত্বের আবেদন জানাতে পারেন। আবেদন জানাতে হয় indiancitizenshiponline.nic.in অথবা মোবাইল অ্যাপ ‘CAA-2019’ এর মাধ্যমে। আবেদনপত্র চলে যাবে ডিস্ট্রিক্ট লেভেল কমিটি এবং পরে এমপাওয়ার্ড কমিটির কাছে। সব নথি ঠিকঠাক থাকলে, সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশিকে নাগরিকত্ব দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আবেদনপত্র অনুমোদন বা খারিজ করার অর্থাৎ নাগরিকত্ব দেওয়ার গতি নিয়ন্ত্রণের কোনো এক্তিয়ারই নেই রাজ্য সরকারের। তবুও শনিবার রাজ্যে ভোট প্রচারে এসে বিজেপির পোস্টার বয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফের প্রতিশ্রুতি দিলেন—‘এখানে (বাংলায়) বিজেপি সরকার গড়তেই মতুয়া-নমঃশূদ্র সহ শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কাজ আরও গতি পাবে।’ ২০১৪ সালে কেন্দ্রে এনডিএ ক্ষমতায় আসা ইস্তক ওপার বাংলা থেকে আসা ছিন্নমূল মতুয়া, নমঃশূদ্র সহ হিন্দু উদ্বাস্তুরা ভারতীয় নাগরিকত্ব মেলার স্বপ্ন দেখছেন। ২০১৪ থেকে ২০২৬—এই পর্বে তিনটি লোকসভা নির্বাচন, দু’টি বিধানসভা ভোট পার করে তৃতীয়টি প্রত্যক্ষ করতে চলেছেন শরণার্থী-উদ্বাস্তুরা। প্রতিবারই বিজেপিকে ভরসা করে ইভিএমে পদ্মফুল বোতাম টিপে বিজেপিকে জিতিয়ে আসছেন শরণার্থী-উদ্বাস্তু অধ্যুষিত এলাকার মানুষ। কিন্তু নাগরিকত্ব মেলেনি। বরং এবারের এসআইআর পর্বে যে ৯১ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে, তার মধ্যে ৬৩.৩ শতাংশ মানুষ হিন্দু। যার সিংহভাগ মতুয়া ও নমঃশূদ্র জনগোষ্ঠীর। রাজনতিক মহলের বক্তব্য, ভরসার জায়গাটা যে দ্রুত হারাচ্ছে দল, তা উপলব্ধি করেই বিজেপির সুপারস্টার ক্যাম্পেইনার নরেন্দ্র মোদি ফের নাগরিকত্ব প্রাপ্তির প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেছেন। 
এদিন পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলীর সিমলন, মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর এবং উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরের সংযোগস্থল কুশমণ্ডিতে দলীয় প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনি সভা করেন মোদি। পূর্বস্থলি এবং কুশমণ্ডিতে বড়ো সংখ্যায় রয়েছেন মতুয়া, নমঃশূদ্র সহ হিন্দু উদ্বাস্তুরা। এদিন এই দু’টি এলাকাতেই আলাদা করে মতুয়াদের নাগরিকত্ব প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী। তবে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী এবং তাদের খুঁজে বের করে দেশ থেকে বিতাড়ন এবং আশ্রয়দাতাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা তিনটি সভা থেকেই করেছেন তিনি। 
প্রচার সভায় চড়া সুরে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘মতুয়া, নমঃশূদ্র সহ সব শরণার্থী পরিবার এখানে তৃণমূলের দয়ায় নেই। দেশের সংবিধান আপনাদের সুরক্ষিত করেছে। সিএএ করেছি, যাতে মতুয়া সহ শরণার্থীরা সুরক্ষা পান। সংবিধান অনুযায়ী মতুয়া সমাজের মানুষের পাশে থাকা হবে। ক্ষমতায় এসেই দ্রুত তাঁদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে।’ সিএএ-২০১৯ লাগু হয়েছে ২০২০ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে। তারপর এ রাজ্যের কয়েক হাজার মতুয়া ও অন্যান্য শরণার্থী নাগরিকত্বের আবেদন জানান। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের তরফে মেলা তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের গত ১০ মার্চ পর্যন্ত নাগরিকত্ব পেয়েছেন প্রায় ৮০ জন। এই পর্বেই অবাক করা তথ্যও সামনে এসেছে। সিএএ সার্টিফিকেটকে এসআইআর প্রক্রিয়ার বৈধ নথির তালিকাভুক্ত করা হলেও, সেই সার্টিফিকেট সহযোগে ৬ নম্বর ফর্ম পূরণ করে ভোটার হতে চেয়েছিলেন জগদ্দল বিধানসভা কেন্দ্রের শ্যামনগর রাহুতার বাসিন্দা জনৈক কল্যাণ এবং চাকদহ বিধানসভার পালপাড়া নেতাজিনগরের শংকর কুমার রায়। নথি পর্যাপ্ত নয় জানিয়ে দু’‌঩জনেরই আবেদন খারিজ করেছে নির্বাচন কমিশন।      

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ