


সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, কোচবিহার: হাতে আর মাত্র চার দিন সময়। আগামী ৫ এপ্রিল কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভা। তার আগে কোচবিহারে বিজেপির সাংগঠনিক ছন্নছাড়া অবস্থা কার্যত স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মোদির জনসভার আগে কোচবিহারের বিজেপি শিবিরে কোনো উচ্ছ্বাসই দেখা যাচ্ছে না। রাসমেলা মাঠও খাঁ খাঁ করছে। জনসভা নিয়ে প্রস্তুতি, হইচই এসব তো দূরঅস্ত, নিজেদের ঘর সামাল দিতেই বিজেপিকে কার্যত হিমশিম খেতে হচ্ছে।
অথচ দু’বছর আগেও কোচবিহারে বিজেপি শিবিরের চেহারাটা এমন ছিল না। কিন্তু বর্তমানে তা একেবারেই বদলে গিয়েছে। এর আগে যতবার নরেন্দ্র মোদি কোচবিহারে এসেছেন ততবারই বিজেপি শিবিরে অনেক আগে থেকেই সাজোসাজো রব পড়ে যেত। সেই আবহে শহর গমগম করেছে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে মোদির এই হাই ভোল্টেজ সভাকে বিজেপি যেভাবে কাজে লাগাতে পারত, তার একাংশও এখনও কোচবিহার শহরে চোখে পড়ছে না। যদিও বিজেপি শিবিরের দাবি, হাতে এখনও বেশ কয়েকদিন সময় রয়েছে। তার আগে সবকিছুই ঠিকঠাক হয়ে যাবে।
বিজেপির রাজ্য কমিটির সদস্য নিখিলরঞ্জন দে বলেন, দু’দিনের মধ্যেই সাজোসাজো রব পড়ে যাবে। নরেন্দ্র মোদির জনসভার জন্য বিধানসভা ধরে ধরে প্রস্তুতি বৈঠক হয়ে গিয়েছে। এখন সকল নেতাই এলাকায় এলাকায় প্রচারে ব্যস্ত রয়েছেন। তাই সকলকে একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে না। অন্য সময় তো নির্বাচনি প্রচার থাকে না। তাই তখন আগে থেকেই অনেক কিছু দেখা যায়। এবারও সভার আগে সবই ঠিক হয়ে যাবে।
ভোট ঘোষণার আগে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে জনসভা করে গিয়েছেন। সেই জনসভা কার্যত ফ্লপ হয়েছিল। সারা জেলা থেকে লোক এনেও বিজেপি রাসমেলা ময়দান ভরাতে পারেনি তখন। নির্বাচনের আগে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলের অন্দরে যথেষ্ট চাপানোউতোর চলেছিল। এবার খোদ প্রধানমন্ত্রীর জনসভা। দলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই সভায় প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের সমাগম হবে। আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারের মোট ১৩টি বিধানসভা নিয়ে এই জনসভা হওয়ার কথা।
এর আগে ২০২৪ সালে কোচবিহারে নরেন্দ্র মোদির জনসভার আগে যে চিত্র শহরে নজরে এসেছিল তার ছিঁটেফোটাও এবার চোখে পড়ছে না। তবে বিজেপি শিবির বারবার আশ্বস্ত করছে, জনসভার আগে সব ঠিক হয়ে যাবে। কর্মী ও নেতারা সকলেই সময় মতো কাজে নেমে পড়বেন।