Bartaman Logo
৯ জুলাই, ২০২৬

মণিপুরে মোদির শান্তি বার্তা! আধাসেনার কনভয়ে অ্যামবুশ, জঙ্গি হামলায় হত ২ জওয়ান, গুরুতর জখম ৪

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘শান্তি বার্তা’র পরও শান্ত হল না মণিপুর। শুক্রবার বিষ্ণুপুর জেলায় সশস্ত্র জঙ্গিদের অতর্কিত ‘অ্যামবুশে’ প্রাণ হারালেন ৩৩ অসম রাইফেলসের দুই জওয়ান নায়েব সুবেদার শ্যাম গুরুং, রাইফেলম্যান রঞ্জিত সিং কাশ্যপ। কমপক্ষে আরও চারজন গুরুতর জখম বলে জানিয়েছে পুলিস।

মণিপুরে মোদির শান্তি বার্তা! আধাসেনার কনভয়ে অ্যামবুশ, জঙ্গি হামলায় হত ২ জওয়ান, গুরুতর জখম ৪
  • ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

বিশেষ সংবাদদাতা, ইম্ফল: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘শান্তি বার্তা’র পরও শান্ত হল না মণিপুর। শুক্রবার বিষ্ণুপুর জেলায় সশস্ত্র জঙ্গিদের অতর্কিত ‘অ্যামবুশে’ প্রাণ হারালেন ৩৩ অসম রাইফেলসের দুই জওয়ান নায়েব সুবেদার শ্যাম গুরুং, রাইফেলম্যান রঞ্জিত সিং কাশ্যপ। কমপক্ষে আরও চারজন গুরুতর জখম বলে জানিয়েছে পুলিস। 

Advertisement

সময়, শুক্রবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিট। ঘটনাস্থল, বিষ্ণুপুর জেলার নাম্বোল থানার অন্তর্গত সাবল লেইকাই নাম্বোল এলাকা। ইম্ফল থেকে বিষ্ণুপুর যাওয়ার পথে জওয়ানদের কনভয়ের উপর অজ্ঞাতপরিচয় সশস্ত্র জঙ্গিরা অতর্কিতে হামলা চালায়। ঝাঁকে ঝাঁকে ছুটে আসে গুলি। অপ্রত্যাশিত এই হামলায় প্রাথমিকভাবে দিশাহারা হয়ে পড়ে জওয়ানরা। পাল্টা জবাব দিলেও ততক্ষণে অসম রাইফেলসের এক জওয়ান প্রাণ হারিয়েছেন। তারপর কাছের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় মৃত্যু হয়েছে আরও এক জওয়ানের। চার জওয়ান গুরুতর জখম। আহতদের চিকিৎসার জন্য রিজিওনাল ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সসে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র বিরাট বাহিনী পৌঁছে গিয়েছে ঘটনাস্থলে। ঘিরে ফেলা হয়েছে গোটা এলাকা। সন্দেহের তির কুকি জঙ্গিগোষ্ঠীর দিকেই।
২০২৩ সালের মে মাস থেকেই মেইতেই এবং কুকি জনগোষ্ঠীর সংঘর্ষে বিপর্যস্ত উত্তর পূর্বাঞ্চলের এই রাজ্য। দুই গোষ্ঠীর হিংসায় কমপক্ষে ২৬০ জন মারা গিয়েছেন এবং গৃহহীন প্রায় ৬০ হাজার। রাজ্যে হিংসা থামাতে ব্যর্থ হয়েছে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকার। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং পদত্যাগ করার পর মণিপুরে জারি করা হয়েছে রাষ্ট্রপতি শাসন। গত আড়াই বছর ধরে হিংসার আগুনে জ্বলতে থাকা মণিপুরে অবশেষে, গত শনিবার পা রেখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। উভয় জনগোষ্ঠীর কাছেই শান্তির বার্তা রেখেছেন। তারপরও কিন্তু শান্ত হয়নি মণিপুর। তার দগদগে প্রমাণ আধাসেনার কনভয়ে এই হামলা। ১৯৪৯ সালের মণিপুর মার্জার এগ্রিমেন্টের বর্ষপূর্তি ২১শে সেপ্টেম্বর। ওইদিন মার্জার এগ্রিমেন্টের বিরোধিতায় উপত্যকা ভিত্তিক জঙ্গি গোষ্ঠীগুলি বন্‌ধ ডেকেছে। তার ঠিক দু’দিন আগে এই হামলার ঘটনা আরও একবার মণিপুরকে আগ্নেয়গিরির মুখে ঠেলে দিল। গত বছরও মণিপুরের জিরিবাম জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর উপর এধরনের হামলা করেছিল জঙ্গিরা। তখন জঙ্গিদের অতর্কিত হানায় এক সিআরপিএফ জওয়ান প্রাণ দিয়েছিলেন। জখম হয়েছিলেন নিরাপত্তা বাহিনীর তিন সদস্য। মণিপুরের রাজ্যপাল অজয় ​​কুমার ভাল্লা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। এক্স হ্যান্ডলে রাজভবন থেকে এক বার্তায় জানানো হয়েছে, রাজ্যপাল এঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শহিদ জওয়ানদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। রাজ্যপাল বলেছেন, ‘এই ধরনের জঘন্য হিংসা কোনও অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না। গোটা রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষার জন্য প্রশাসন কড়া হাতে ব্যবস্থা নেবে। অপরাধীরা যোগ্য জবাব পাবে।’ মণিপুরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বীরেন সিং বলেন, ‘অসম রাইফেলসের কনভয়ের উপর হামলার ঘটনায় আমি মর্মাহত। এই জঘন্য ঘটনার সাথে যুক্ত অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তির মুখে পড়তে হবে।’ 
মণিপুরের মানুষ কিন্তু আশ্বাস-বাক্যে শান্তি খুঁজছে না। তারা আতঙ্কিত। বিধ্বস্ত। বিপর্যস্ত। প্রশ্ন তাদের একটাই—আর কত মৃত্যুর পর শান্ত হবে আমাদের রাজ্য?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ