প্রীতেশ বসু, কলকাতা: বাড়ি বাড়ি জল প্রকল্প নিয়ে বৈঠকে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ, ৯৫ লক্ষের বেশি বাড়িতে সংযোগ দেওয়া হলেও, অনেক বাড়িতে জল পাওয়া যাচ্ছে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রাজ্যবাসীর হয়রানিতে ইতি টানতে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি। যার ফলও পেয়েছেন রাজ্যবাসী। এবারের কেন্দ্রীয় বাজেটে বাড়ি বাড়ি জল দেওয়ার প্রকল্পের (এরাজ্যে যার নাম ‘জল স্বপ্ন’) সময়সীমা ২০২৮ পর্যন্ত বাড়িয়েছে কেন্দ্র। ফলে নতুন অর্থবর্ষে রাজ্যগুলিকে ফের নিজের অংশের টাকা দেওয়া শুরু করবে বলেও কেন্দ্র আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু তার আগে প্রতিটি রাজ্যের সচিব পর্যায়ের কর্তাদের নিয়ে মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে বৈঠক করলেন জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাটিলের নেতৃত্বাধীন কমিটি। বৈঠকে রাজ্যগুলিকে নিজের অংশের টাকা দেওয়ার ক্ষেত্রে মন্ত্রকের তরফে বেশ কিছু শর্তের কথা জানানো হয়েছে। কেন্দ্রের শর্ত, শুধু সংযোগ সংখ্যা বাড়ালেই চলবে না। নিশ্চিত করতে হবে প্রতিটি বাড়িতে জল যাচ্ছে কি না। বাস্তবে তা না হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হতে পারে বলেই জানানো হয়েছে। রাজ্যের মানুষের কাছে পর্যাপ্ত পানীয় জল পৌঁছে দিতে বাংলার মুখ্যমন্ত্রী চার মাস আগে যে দিশা দেখিয়েছিলেন, সেই মডেল অবলম্বন করেই ২০২৯-এর আগে মোদি সরকার দেশের মানুষের কাছে জল পৌঁছে দিতে চাইছে বলেই মনে করছে প্রশাসনিক মহল।
রাজ্যের তরফে বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের পদস্থ আধিকারিকরা। সেখানে রাজ্যের কাজের অগ্রগতি নিয়ে কেন্দ্র প্রশংসা করেছে বলেই জানা গিয়েছে। বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে রাজ্যে মোট ১৫ হাজার কোটি টাকার কাজের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর অর্ধেক দেবে রাজ্য, বাকিটা কেন্দ্র। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সাল থেকে পাঁচ বছরের জন্য চলেছে জেজেএম প্রকল্প। মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০২৪-এর মার্চে। ফলে আগস্ট থেকে এই খাতের টাকা দেওয়া বন্ধ রেখেছে কেন্দ্র। বাজেটে প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে নতুন অর্থবর্ষে এপ্রিলে থেকে নয়াদিল্লি ফের টাকা দেওয়া শুরু করবে বলেই বৈঠকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্র টাকা বন্ধ রাখায় বর্তমানে কাজ চলছে রাজ্যের টাকায়। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার আরও ৪০০ কোটি টাকা নবান্ন ছেড়েছে। সেই ক্ষেত্রে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে কেন্দ্র নিজের অংশের ৫ হাজার ৮৯ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ২ হাজার ৫২৮ কোটি টাকা দিয়েছে। আর রাজ্য নিজের অংশের ৪ হাজার ৯৯০ কোটি টাকার মধ্যে ইতিমধ্যে ৪ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা দিয়ে দিয়েছে। এবিষয় মন্ত্রী পুলক রায় জানান, সাধারণত কেন্দ্র অর্থ দিলে তার ম্যাচিং গ্রান্ট দেয় রাজ্য। এক্ষেত্রে তো সম্পূর্ণ বিপরীত। রাজ্য আগে টাকা দিচ্ছে। আর কেন্দ্রের অনুদানের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার মুখ্যমন্ত্রীর দেখানো পথকে মডেল করেই দেশের সমস্ত রাজ্যকে কাজের গুণমান উন্নয়নের নির্দেশ দিচ্ছে কেন্দ্র।