Bartaman Logo
৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

সাত বছর পর চীন সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনা মোদিকে, আজ বৈঠক জিনপিংয়ের সঙ্গে

রেড কার্পেট পেতে স্বাগত জানানো হল। এয়ারক্র্যাফ্ট থেকে নামতেই টারম্যাক জুড়ে নৃত্য ও সঙ্গীত দিয়ে শুভ সূচনা হল সফরের।

সাত বছর পর চীন সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনা মোদিকে, আজ বৈঠক জিনপিংয়ের সঙ্গে
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০৫
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: রেড কার্পেট পেতে স্বাগত জানানো হল। এয়ারক্র্যাফ্ট থেকে নামতেই টারম্যাক জুড়ে নৃত্য ও সঙ্গীত দিয়ে শুভ সূচনা হল সফরের। রাষ্ট্রপ্রধানদের জন্য নির্ধারিত চোখ ধাঁধানো হোটেলের রিসেপশনে অপেক্ষা করছিল আর এক বিস্ময়। হিন্দুস্তানি উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের ডালি সাজিয়ে বসে ছিলেন চীনের তরুণ সমাজ। কেউ বাজাচ্ছেন সন্তুর। কেউ সেতার। কেউ তবলা। তরুণীদের পরনে শাড়ি। শনিবার চীনের তিয়ানজনে পৌঁছনোর পর অভিভূত নরেন্দ্র মোদি। এর আগে জাপান সফরে ১০ লক্ষ কোটির লগ্নি চুক্তি সম্পন্ন করেছেন তিনি। সেই সফর সমাপ্ত করে মোদি পা দিলেন চীনে। সাত বছর পর। বিগত সাত বছরের পৃথিবী ছিল একরকম। গত ৬ মাসে সেই পৃথিবী বদলে গিয়েছে। সৌজন্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বন্ধু এবং শত্রু সমীকরণে এসেছে বিপুল পার্থক্য। 

Advertisement

২০২০ সালের পর চীন ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক হয়েছে ক্রমেই তিক্ত এবং সংঘাতময়। আর আমেরিকার আগ্রাসী  শুল্ক যুদ্ধের জেরে বিশ্ব ক্ষমতায়নের আকাশে এশিয়া উদয়ের সম্ভাবনা। রাশিয়া অনেকাংশে ইউরোপে থেকেও পশ্চিমিদের চক্ষুশূল। চীন ও ভারতকেও ক্ষিপ্ত করেছে আমেরিকা। অতএব ভ্লাদিমির পুতিন, নরেন্দ্র মোদি এবং জি জিনপিং ক্রমেই কাছে এসেছেন। এক বছর আগেও কল্পনা করা যায়নি যে, মোদি কোনও মৈত্রী সফরে বেজিং যাবেন। অথবা ভারত সফরে আসবেন জিনপিং। কিন্তু বিদেশ নীতির চালিকাশক্তি দেশের স্বার্থ। তাই ট্রাম্পের একনায়কতন্ত্রের জেরে নতুন বিশ্বের রসায়ন তৈরির ভিত্তিভূমি হতে চলেছে চীনের তিয়ানজন। আজ মোদি এবং জিনপিং এর বৈঠক। আগামী কাল পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ। এই দুই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পাশাপাশি তিন রাষ্ট্রপ্রধান একসঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন বলেও জল্পনা তুঙ্গে। তারই আগে শনিবার নরেন্দ্র মোদিকে ফোন করেন ভোলোদামির জেলেনস্কি। তাঁদের মধ্যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি ও শান্তিস্থাপনের প্রক্রিয়া নিয়ে কথা হয়েছে বলে এক্স হ্যান্ডলে লেখেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদিকে শনিবারই বিদায়কালে জাপানের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁর দেশ ভারতের পাশে আছে। আগেও ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। বিশ্বের পাঁচ বৃহত্তম অর্থনীতির মধ্যে চীন ও জাপান ভারতের পাশে থাকার বার্তা দিচ্ছে। রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রধান দু‌ই রাষ্ট্র রাশিয়া ও চীন যদি ভারতের সঙ্গে জোট করে তার প্রভাব বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের সম্মেলনের এজেন্ডা অনেক কিছুই। কিন্তু প্রকৃত লক্ষ্য, ট্রাম্পের শুল্ক আগ্রাসনকে মোকাবিলা করে বিকল্প অর্থনৈতিক  ও স্ট্র্যাটেজিক অক্ষ তৈরি করা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ