সোহম কর, কলকাতা: তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে ‘সেটিং’ তত্ত্বকে ‘আজগুবি’ লেখা হল সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের রাজ্য মুখপত্রে। এদিকে তৃণমূল-বিজেপির মধ্যে সর্বক্ষণ ‘সেটিং’ খুঁজে পায় আলিমুদ্দিন। আবার এই লিবারেশন বাংলা-বিহারে সিপিএমের নির্বাচনী জোটসঙ্গী। লিবারেশনের পলিটব্যুরো সদস্য কার্তিক পাল ‘সেটিং’ তত্ত্বের তীব্র সমালোচনা করে লিখেছেন, ‘তৃণমূল-বিজেপি একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ, বা মোদি-মমতার আজগুবি ‘সেটিং তত্ত্ব’ শেষবিচারে রাজ্যে বিজেপির জমিকেই শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাবে।’ প্রশ্ন উঠছে, বুনিয়াদি স্তরে বিরোধিতা হলে ‘বৃহত্তর বাম ঐক্য’ কি আসলেই সোনার পাথর বাটি?
তৃণমূল-বিজেপির ‘সেটিং’ তত্ত্ব নিয়ে আলিমুদ্দিনও এর আগে একাধিকবার সমালোচনার মুখে পড়েছে। সামাজিক মাধ্যমে জন্ম নেওয়া ‘বিজেমূল’ নামটি কালের নিয়মে পিছনে সরে গিয়েছে। কিন্তু ‘সেটিং’ তত্ত্ব থেকে এখনও পিছু হটেনি সিপিএম। এই যুক্তির সপক্ষে তাঁদের যুক্তিও রয়েছে। সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী এই বিষয়ে বলছিলেন, ‘কে কী লিখেছেন আমি জানি না। তৃণমূল যেভাবে রাজ্য পরিচালনা করছে, তার সুফল পাচ্ছে বিজেপি। সেটা তথ্যে স্পষ্ট। যেভাবে ইডি-সিবিআইকে দিয়ে তদন্তকে ধামাচাপা দেওয়া হচ্ছে তা তৃণমূলকেই সুবিধা করে দিচ্ছে। এখন তো বহু মানুষ, এমনকি প্রাক্তন বিচারপতিও একথা বলছেন। যারা মনে করছে, বিজেপি তৃণমূলকে ঠেকাবে বা উলটোটা, দুজনেই ঠকবেন।’ লিবারেশন নেতা কার্তিক পাল তাঁর যুক্তি সাজাচ্ছেন, ‘দুটো দল আর দুটো সরকার আলাদা। এই সেটিং তত্ত্ব বললে আসলে বামেদের ভোট বিজেপিতে যাচ্ছে। এই নীতি থেকে না সরে এলে সিপিএমের ফল জীবনে ভালো হবে না।’
যদিও আগামী দিনে নির্বাচনী জোটে এইসব দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়বে কি না সে প্রশ্নের উত্তর এখনই দিতে চাননি কার্তিকবাবু। সিপিএমের এক নেতা বলছিলেন, ‘নকশালরা নানাসময়ে নানা কথা বলেন। এখন ওঁরা বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে বলছেন, সেটাই আমরা ধরব।’