নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কেন্দ্রীয় সরকারই নিয়ম করেছিল, প্রতি মাসে একবার রান্নার গ্যাসের দাম ঘোষণা হবে। সেই নিয়ম মাঝে মাঝে ভাঙে খোদ সরকার। আর সেটা তখনই হয়, যখন দাম এক লাফে অনেকটা বাড়ানো হয়। চলতি মাসের গোড়ায় মোদি সরকার জানিয়েছিল, গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের দাম অপরিবর্তিত থাকবে। কিন্তু মাত্র একসপ্তাহের মধ্যেই সেই অবস্থান বদলে গেল। সোমবার কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী ঘোষণা করলেন, ১৪.২ কেজি সিলিন্ডারের দাম বাড়বে ৫০ টাকা। আজ মঙ্গলবার থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে। এর ফলে কলকাতায় এলপিজি সিলিন্ডারের দাম দাঁড়াবে ৮৭৯ টাকা। যাঁরা আগে রান্নার গ্যাস বুকিং করেছিলেন, তাঁদেরও নতুন দাম চোকাতে হবে। শুধু সাধারণ মানুষ নন, উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকদেরও বর্ধিত দাম মেটাতে হবে।
স্বয়ং মন্ত্রী অবশ্য এদিন দাবি করেন, যে উপকরণ বা কাঁচামালের উপর নির্ভর করে রান্নার গ্যাসের দাম স্থির হয়, সেগুলির দর ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬৩ শতাংশ বেড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিকে এই দায় বইতে হচ্ছে। ‘কম’ দামে সিলিন্ডার বিক্রি করে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে সার্বিকভাবে ৪১ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা ‘ক্ষতি’র মুখে পড়তে হয়েছে সংস্থাগুলিকে। সেই ক্ষতি সামলাতেই ‘কিছুটা’ বাড়ানো হয়েছে সিলিন্ডারের দাম। তিনি আরও বলেন, নয়া দাম কার্যকর হলে উজ্জ্বলা যোজনার গ্রাহকদের প্রতিদিন জ্বালানি পিছু গড়ে ৬ টাকা ১০ পসয়া খরচ করতে হবে। সাধারণ গ্রাহকদের ক্ষেত্রে তা ১৪ টাকা ৫৭ পয়সা। এই খরচ ন্যায়সঙ্গত। যদিও এই হিসেবের ব্যাখ্যা মিলছে না। বরং তিনি বলেছেন, যে দাম বাড়ানো হল, তাতে আগামী দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলির খরচের বোঝা কিছুটা কমবে। কিন্তু আগের ‘ক্ষতি’ পূরণ করবে না। সে জন্য অর্থমন্ত্রকের কাছে আর্থিক সুরাহা বা বাজেট বরাদ্দ চাইবে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। তবে সাধারণ মানুষের আর্থিক বোঝা কমানোর কোনও দায়বদ্ধতার কথা শোনা যায়নি তাঁর মুখে।
রান্নার গ্যাসের দামের পাশাপাশি এদিন পেট্রল ও ডিজেলের অন্তঃশুল্ক লিটার পিছু ২ টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। যদিও তাতে জ্বালানি তেলের খুচরো দামে প্রভাব পড়ছে না বলে জানিয়েছে পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, পেট্রলের শুল্ক বৃদ্ধি পেয়ে লিটার পিছু ১৩ টাকা ও ডিজেলে লিটার পিছু ১০ টাকা হচ্ছে। আজ থেকে নতুন হারে শুল্ক ধার্য হবে। সংশ্লিষ্ট মহলের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম অনেকটা কমেছে। ২০২১ সালের এপ্রিলের পর অশোধিত তেলের দাম এখন সর্বনিম্ন স্তরে। ফলে আম জনতাকে সুরাহা দিতে পারত কেন্দ্র। কিন্তু সেই পথে হাঁটেনি ‘আচ্ছে দিন-এর স্বপ্ন দেখানো মোদি সরকার। বরং শুল্ক বাড়িয়ে রাজকোষ ভরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হল। এই শুল্ক বৃদ্ধির হিসেব কষতে গিয়ে মন্ত্রী জানিয়েছেন, বছরে ১৬ হাজার কোটি লিটার জ্বালানি বিক্রি হলে, দু’টাকা বাড়তি শুল্কের জন্য ৩২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব বাবদ ঘরে আসবে। এই টাকাও তেল সংস্থাগুলির ক্ষতি পুষিয়ে দেবে কিছুটা। কিন্তু আম জনতার লাভ? তা নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই মোদি সরকারের।