


নিজস্ব প্রতিনিধি, হলদিয়া, আসানসোল ও সিউড়ি: ভোটের মুখে ৯১ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ পশ্চিমবঙ্গে! তার মধ্যে ২৭ লক্ষেরও বেশি ‘ডিলিট’ হয়েছে সদ্যই। অথচ, তা নিয়ে একটি বাক্যও খরচ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বললেন শুধু অনুপ্রবেশকারীদের উপড়ে ফেলার কথা। বৃহস্পতিবার ভোটপ্রচারে রাজ্যে এসেছিলেন মোদি। তিনটি সভা করেছেন। তিনটি সভাতেই তাঁর মুখে শোনা গিয়েছে রাজ্যবাসীর অধিকার রক্ষার কথা। সঙ্গে ছ’দফার গ্যারান্টি, মোদির উপর ভরসা আর অপশাসনের হাত থেকে মুক্তি দিয়ে সোনার বাংলা গড়ার আহ্বান। আর ঠিক দু’সপ্তাহ বাদে রাজ্যে প্রথম দফার ভোট। তাই এসআইআরে নাম বাদ যাওয়া ভোটারদের অনেকেই ভেবেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী কোনো আশ্বাসবাণী শোনাবেন। কিন্তু সেই আশায় জল ঢেলেছেন তিনি।
এদিন মোদির প্রথম সভাটি ছিল হলদিয়ায়। তারপর আসানসোল এবং শেষে সিউড়িতে সভায় যোগ দেন মোদি। তিন জায়গাতেই চিরাচরিত ভঙ্গিতে ছ’দফার গ্যারান্টি ঘোষণা করেন। এর মধ্যে পাঁচ নম্বর গ্যারান্টি হল শরণার্থীদের সুরক্ষা! এর পাশাপাশি রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে সপ্তম পে কমিশন চালু এবং শূন্যপদে ঢালাও নিয়োগের ঢালাও প্রতিশ্রুতি দেন প্রধানমন্ত্রী। দাবি করেন, ক্যালেন্ডার তৈরি করে রুটিন মাফিক নিয়োগ হবে। রোজগার মেলা হবে এবং নিয়োগে মেধাই শেষ কথা বলবে। যদিও মোদির এই প্রতিশ্রুতিকে ‘জুমলা’ করে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তমলুক সাংগঠনিক জেলা সভাপতি সুজিত রায় বলেন, ‘রেল সহ কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনে নানা দপ্তরে লক্ষ লক্ষ শূন্যপদ পড়ে আছে। সময়ে নিয়োগ হচ্ছে না। রাজ্যে ভোটপ্রচারে এসে গালভরা প্রতিশ্রুতি দিতে একটুও লজ্জা লাগছে না প্রধানমন্ত্রীর!’
মোদি অবশ্য শুধু গালভরা প্রতিশ্রুতি দেননি, পরিবর্তনের পক্ষে জোর সওয়ালও করেছেন। বলেছেন, ‘পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রাম পরিবর্তনের রাস্তা দেখিয়েছিল। এবার গোটা পশ্চিমবঙ্গ সেই পরিবর্তনের রাস্তায় চলতে শুরু করেছে। এই সরকার বাংলার যুবকদের সঙ্গে যা করেছে সেই পাপ আগামী ১০০ বছরেও ধুতে পারবে না।’ নিয়োগ দুর্নীতির পাশাপাশি মেয়েদের উপর অপরাধ নিয়েও তৃণমূল সরকারের সমালোচনায় সরব হন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, তৃণমূল সরকার গুন্ডা ও অপরাধীদের সুরক্ষা দিচ্ছে। হলদিয়া শিল্পাঞ্চলের বর্তমান অবস্থার জন্য আক্ষেপও শোনা গিয়েছে তাঁর গলায়।
আসানসোলে প্রধানমন্ত্রী সরব হন সিন্ডিকেট-রাজ নিয়ে। বলেন, ‘আসানসোলকে পুরানো শিল্পের গর্ব ফিরিয়ে দিতে পারে একমাত্র বিজেপি সরকার। রাজ্যের প্রবল বাধা সত্ত্বেও স্টিল কারখানার উন্নয়নে ৪৫ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়েছে। শিল্পাঞ্চলে পানীয় জলের সংকট আছে। দূষণের সমস্যা রয়েছে। অবৈধ খননে জমিতে ধস হচ্ছে। বিজেপি সরকার আসলে এই সমস্যার সমাধান হবে।’ সিউড়ির সভাতেও তৃণমূলের মহাজঙ্গলরাজ নিয়ে তোপ দাগেন মোদি। টানেন বগটুইয়ের উদাহরণও। এসআইআরে ভোটার বাতিল নিয়ে কোনো কথা না বললেও সিউড়ির সভায় মালদহের ঘটনা উঠেছে এসেছে প্রধানমন্ত্রীর গলায়। সেই সূত্র ধরেই তিনি
আরও বলেন, ‘অনুপ্রবেশকারীদের তাড়ানো হবে। তাদের মাথাদের জেলে ভরা হবে।’’