Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

মাওবাদী সন্ত্রাস আজ অতীত, গ্রামে ফিরতে চাইছেন ঘরছাড়া সুকুরামরা

মাওবাদী সন্ত্রাস আজ অতীত, গ্রামে ফিরতে চাইছেন ঘরছাড়া সুকুরামরা
  • ১৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
রায়পুর: পেরিয়ে গিয়েছে দু’দশক। মাওবাদী সন্ত্রাসে বসতভিটে ছেড়েছিল ছত্তিশগড়ের নারায়ণপুর জেলার আবুজমাড়ে গ্রামের প্রায় ১০০টি পরিবার। আশ্রয় নিয়েছিল ৪০ কিলোমিটার দূরে নারায়ণপুর শহরের সরকারি জমিতে। ঘটনাটি ছিল ২০০৩ সালের। সেই গ্রামে মাওবাদী আতঙ্ক আজ অতীত। এলাকায় গড়ে উঠেছে পুলিস ক্যাম্প। হয়েছে রাস্তাঘাট। উন্নতি হয়েছে স্বাস্থ্য পরিষেবার। ঘরছাড়া পরিবারগুলিও এখন গ্রামে ফিরার জন্য অধীর অপেক্ষায়। অন্তত ২৫টি পরিবার পুরনো ভিটেয় ফিরতে চাইছে বলে সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর। 
Advertisement
চলতি বছরের অক্টোবরে বস্তারে নিরাপত্তা বাহিনী ও পুলিসের সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছিল ৩১ জন মাওবাদীর। তার পর থেকে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে গ্রামগুলিতে। তেমনই একটি  গ্রাম হল আবুজমাড়ে।
৬০ বছরের সুকুমার নুরেতি। তিনিও ২০০৩ সালের এপ্রিলে জন্মভিটে আবুজমাড়ে ছেড়ে নারায়ণপুর টাউনে চলে এসেছিলেন। মাওবাদী উপদ্রোব হ্রাস পাওয়ায় সম্প্রতি পৈতৃক ভিটে ঘুরে এসেছেন তিনি। তারপরই সিদ্ধান্ত নেন গ্রামে ফেরার। সুকুমার বলেন, ‘আমাদের গ্রামে প্রায় ১০০টি পরিবারের বাস ছিল। তাদের মধ্যে ২৫টি পরিবার ছিল সরকারি স্বনির্ভর প্রকল্প ‘গায়েত্রী পরিবার’-এর সদস্য। আর এখানেই প্রবল আপত্তি ছিল মাওবাদীদের। ওই গোষ্ঠী না ছাড়লে বাসিন্দাদের খুনের হুমকি দেয় ওরা। তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই বসতভিটে ছেড়ে অন্যত্র চলে যাই।’ পরিস্থিতি বদল হওয়ায় খুশি তিনি। 
সদ্য আবুজমাড়ে গ্রামে ফেরা এক বাসিন্দা বলেন, ‘দু’দশক পর গ্রামের একমাত্র শিবমন্দির খুলে গিয়েছে। প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর তৈরি হয়েছে পুলিস ক্যাম্প। পাশাপাশি রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও স্কুলের উন্নতি হচ্ছে। একটা সময় মাওবাদীদের বাধায় এসব কিছুই বন্ধ ছিল। আজ সেসব নেই। নিরাপত্তা বাহিনীর লাগাতার অভিযানে মাওবাদীরা আজ পিছু হটেছে।’
বাসিন্দাদের নির্ভয়ে ঘরে ফেরাতে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছে পুলিস প্রশাসনও। নারায়ণপুরের পুলিস সুপার প্রভাত কুমার বলেন, ‘মাওবাদী অধ্যুষিত প্রত্যন্ত গ্রামগুলিতে ৬টি পুলিস ক্যাম্প তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মোবাইল টাওয়ার, স্কুল, হাসপাতাল, রাস্তাঘাট নির্মাণ হচ্ছে। কয়েক হাজার পরিবারকে সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পে যুক্ত করা হয়েছে। নিরাপত্তার আশ্বাস পেয়ে বাসিন্দারা ফের নিজভূমিতে ফিরছেন।’ সম্প্রতি আবুজমাড়ে পঞ্চায়েতে উন্নয়নমূলক কাজ পরিদর্শন করে এসেছেন রাজ্যের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি নীহারিকা বরিকা। এলাকার উন্নয়ন দেখে খুশি বাসিন্দারাও। 
সম্পর্কিত সংবাদ