সংবাদদাতা, তেহট্ট: মর্গ আছে। সেখানে মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য এসিও আছে। অথচ সেখানে ময়নাতদন্তের কোনও ব্যবস্থা নেই। তাই ময়নাতদন্ত করার জন্য যেতে হয় শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে। এতে সময় যেমন বেশি লাগে, তেমনি খরচও বেশি হয় বাসিন্দাদের। তাই তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত কেন্দ্রের দাবি তেহট্ট মহকুমার বাসিন্দাদের। যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছে, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তেহট্ট মহকুমা এলাকায় চারটে ব্লক আছে। তেহট্ট-১, ২ ও করিমপুর-১, ২। চারটি ব্লকে বেশ কয়েক লক্ষ মানুষের বাস। এই সব এলাকায় প্রায় দিনই নানাভাবে বিভিন্ন অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সেই মৃত্যুর ঘটনা করিমপুর বা তেহট্ট বা পলাশিপাড়া যেখানেই ঘটুক, সব মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য পাঠানো হয় তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে। তারপর সেখান থেকে তা যায় শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে। তেহট্ট থেকে করিমপুরের দূরত্ব প্রায় ৪৫ কিলোমিটার। আবার তেহট্ট থেকে কৃষ্ণনগরের দুরত্ব ৪৮ কিলোমিটার। করিমপুর এলাকায় যদি কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, তবে তা ময়নাতদন্তের জন্য প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে। যদি সকালে ঘটে, তাহলে সরাসরি শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু দুপুরের পর এই ধরনের ঘটনা ঘটলে সেই সব মৃতদেহ সংরক্ষণের জন্য তেহট্টে নিয়ে আসতে হয়। এতে যেমন বেশি সময় ব্যয় হয়, তেমনি খরচও হয় অনেক বেশি। মহকুমার বাসিন্দাদের দাবি, তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে সব পরিকাঠামো আছে। শুধু প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় এই জায়গায় ময়নাতদন্ত চালু হচ্ছে না। তাঁরা বলেন, এলাকার বেশির ভাগ মানুষ গরিব। তাঁদের ক্ষেত্রে এত টাকা খরচ করে ময়নাতদন্তে জেলা হাসপাতালে যাওয়া ব্যয়বহুল। সঙ্গে সারাদিন লেগে যাবে। তাই তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হলে সবদিক থেকে সুবিধা হবে।
Advertisement
এই বিষয়ে তেহট্ট মহকুমা হাসপাতালের সুপার বাপ্পাদিত্য ঢালি বলেন, আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাব। তাঁরা যা সিদ্ধান্ত নেবেন, সেই মতো আমরা মানব।



