নয়াদিল্লি: প্রায় দেড় বছরেরও বেশি অশান্তির আগুনে পুড়ছে মণিপুর। কোনওভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য। হিংসা কবলিত জিরিবাম সহ রাজ্যের ছ’টি থানায় সশস্ত্র বাহিনীর (বিশেষ ক্ষমতা) আইন বা আফস্পা জারি করল কেন্দ্র। এই আইনে কোনও এলাকা বা জেলাকে উপদ্রুত হিসেবে ঘোষণা করা হয়। যেখানে এই আইন জারি হয়,সেখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব সেনার হাতে বর্তায়। আইনে সেনাকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক জানিয়েছে, চলতি জাতি সংঘর্ষজনিত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যে ছটি থানায় আফস্পা পুনর্বহাল হয়েছে সেগুলি হল পশ্চিম ইম্ফলের লামাং, সেকমাই, ইম্ফল পূর্বের লামাই, জিরিবাম জেলার জিরিবাম, বিষ্ণপুরের মোইরাং এবং কাংপোকপির লেইমাখং। এর আগে গত ১ অক্টোবর ১৯ থানা বাদ দিয়ে সারা রাজ্যেই আফস্পা জারি করছিল মণিপুর সরকার। এবার তালিকার বাইরে থাকা ১৯টির মধ্যে ছ’টি থানা এলাকাতেও ফিরল আফস্পা।
Advertisement
এদিকে, জিরিবামে এক জনজাতি মহিলাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ঘটনায় ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এসেছে পুলিসের। সেখানে গত ৭ নভেম্বরের ঘটনার ভয়াবহতা ফুটে উঠেছে। রিপোর্টে দেখা গিয়েছে, ওই মহিলার শরীরের বেশিরভাগই পুড়ে গিয়েছিল। মহিলার মৃতদেহে ছিল সাতটি আঘাত। হাড়গোড়ও ভেঙে গিয়েছে। মাথার খুলি শুধু পোড়াই নয়, টুকরো টুকরো হয়ে গিয়েছে। শরীরের বেশ কিছু অংশ মেলেইনি। অসমের শিলচর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ওই দেহের ময়নাতদন্ত হয়েছিল। ওই মহিলাকে পুড়িয়ে মারার আগে সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা ধর্ষণ করেছিল বলে দাবি করেছেন তাঁর স্বামী। যদিও ধর্ষণের বিষয়ে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। এরইমধ্যে জিরিবাম ও চুড়াচাঁদপুর জেলায় অভিযান চালিয়ে প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। বৃহস্পতিবার পুলিস একথা জানিয়েছে।



