ইম্ফল: কতই বা বয়স হবে, মাত্র ১০ মাস। গোষ্ঠী সংঘর্ষের জেরে মণিপুরে সেই দুধের শিশুর উপর আক্রোশ মেটাতে একটুও হাত কাঁপেনি দুষ্কৃতীদের। তার চোখের দু’টি মণিই উপড়েই নেওয়া হয়েছিল। আর আট বছরের নাবালিকার শরীরে মিলেছে ন-ন’টি বুলেট। অপর মহিলার শরীরের বেশিরভাগ অংশেরই চামড়া ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছিল। ১১ নভেম্বর মণিপুরের জিরিবাম জেলা থেকে অপহরণ করা হয় একই পরিবারের ছ’জনকে। পরে তাদের ছিন্নভিন্ন ক্ষত বিক্ষত দেহ উদ্ধার হয় নদী থেকে। আগেই পরিবারের তিন সদস্যের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল শিলচর মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেই রিপোর্টেও নারকীয় অত্যাচার চালিয়ে খুনের প্রমাণ উঠে এসেছিল। বুধবার মেডিক্যাল কলেজের পক্ষ থেকে বাকি তিনজনের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। তার পরতে পরতে রয়েছে নারকীয় নৃশংসতার বিবরণ।
Advertisement
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ১০ মাসের লাইসরম লামগনবার দু’টি চোখের মণিই খুবলে নেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়ার সময় তার মাথা খুঁজে পাওয়া যায়নি। ১৭ নভেম্বর তার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য আনা হয়। তার পরনে ছিল টি-শার্ট। কিন্তু পুরো শরীরেই পচন ধরে গিয়েছিল। তেলন থালানগানবি নামে আট বছরের মেয়েটির সারা শরীরে বিশেষত পেটে ছিল গভীর ক্ষত। তার দেহে বুলেটের চিহ্ন মিলেছে। ৩১ বছরের তেলম থোইবির শরীরের বেশ কিছু অংশের চামড়া ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর মাথার খুলিও ছিল ভাঙাচোরা। সঙ্গে সারা শরীরে গুলির ক্ষত। বুধবারই প্রকাশ করা হয়েছে, অপহৃত অপর দুই ব্যক্তি লাইসরম বারেন (৬৪) এবং মাইবন কেশরের (৭১) ময়নাতদন্তের রিপোর্ট। মাইবম কেশরের ডান হাতের চামড়া ছাড়িয়ে আগুন লাগানো হয়েছিল। আর লাইসরম বারেনের সারা দেহে পোড়ার গভীর ক্ষত।



