Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

মনমোহনকে ভারতরত্ন, স্লোগান মোদির সামনেই, কাঁধ দিলেন রাহুল, বিদায় গান স্যালুটে

মনমোহনকে ভারতরত্ন, স্লোগান মোদির সামনেই, কাঁধ দিলেন রাহুল, বিদায় গান স্যালুটে
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সন্দীপ স্বর্ণকার, নয়াদিল্লি: দলের ১৩৯তম প্রতিষ্ঠা দিবস ছিল শনিবার। সেই দিনেই ২৪ আকবর রোডে কংগ্রেস সদর দপ্তরে এলেন তিনি, কফিনবন্দি হয়ে। এই সেই ঠিকানা যেখানে তাঁকে দেখিয়ে ঘোষণা করেছিলেন সোনিয়া গান্ধী—দ্বিতীয়বারও উনিই আমাদের প্রধানমন্ত্রী-মুখ! সেখানেই এদিন শায়িত ছিল তাঁর নিথর দেহ, দেখে ছলছল করে উঠল অনেকের চোখ। বেলা বাড়ল। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কফিন উঠল সেনা-শকটে। শ্মশানে শেষযাত্রায় কাঁধ দিলেন রাহুল গান্ধী। ২১টি গান স্যালুটের মাধ্যমে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় হল অন্ত্যেষ্টি। অনন্তলোকে পাড়ি দিলেন মনমোহন সিং। তবে নিঃশব্দে নয়! চন্দন কাঠের চিতার আগুন-শিখা যত বাড়তে থাকল, ততই চড়ল সিংহভাগ শবযাত্রীর গলা। নিগমবোধ ঘাটে গম্ভীর মুখে তখন হাজির নরেন্দ্র মোদি। পাশে রাজনাথ সিং, অমিত শাহ। তাঁদের সামনেই স্লোগান উঠল— ‘মনমোহন সিংজি কো ভারতরত্ন দিয়া যায়ে।’
Advertisement
প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর শেষকৃত্যেও রাজনীতির ছোঁয়া ছিল বহাল। রাজঘাটে তাঁর অন্ত্যেষ্টি ও স্মৃতিসৌধ তৈরির আর্জিতে আমল দেননি মোদি-শাহ। দু’জনে এদিন শ্মশানে উপস্থিত হলেন বটে, ফিরলেন বিতর্ক জিইয়ে। রাহুল-প্রিয়াঙ্কা তো বটেই, আম আদমি পার্টি, শিরোমণি অকালি দলও প্রশ্ন তুলল, কেন রাজঘাটের সমাধিক্ষেত্রে অন্ত্যেষ্টির জায়গা মিলল না প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর? এই কি ভারতের অন্যতম সংস্কারকের প্রতি মোদি সরকারের শেষ শ্রদ্ধা?
যদিও সঙ্কীর্ণ রাজনীতি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীকে ছুঁতে পারল কই! কংগ্রেস সদর দপ্তরের কাছেই ৩, মোতিলাল নেহরু মার্গ, মনমোহন সিংয়ের বাসভবন। সেখান থেকে সকাল ন’টা নাগাদ তাঁর নিথর দেহ আনা হল এআইসিসি সদর দপ্তরে। গেট থেকে মনমোহন সিংয়ের সহধর্মিনী গুরশরণ কাউর, কন্যাদের হাত ধরে নিয়ে এলেন রাহুল গান্ধী। এআইসিসির উঠোনে তখন অপেক্ষায় সোনিয়া, প্রিয়াঙ্কা, মল্লিকার্জুন খাড়্গে। সরকারি প্রোটোকলে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর শেষযাত্রার যাবতীয় দায়িত্ব সেনার। তবে আদতে মনমোহন সিং যে কংগ্রেস পরিবারেরই। তাই বাড়ির লোকের মতোই গান্ধী পরিবার পার্টি অফিসের অন্দরে নিয়ে গেল গুরশরণ এবং তিন কন্যা উপিন্দর, দমন এবং অমৃতকে। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি যেখানে বসে, সেখানেই রাখা হল কফিন। কাঁচের একফালি ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে শান্ত মুখটুকু। দুই মেয়ের উড়নি সাদা। দমন সিংয়ের মাথায় শুধু নীল ওড়না, বাবার পাগড়ির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে। মাকে সঙ্গে নিয়ে বাবার পায়ে দিলেন পুষ্পার্ঘ্য। সোনিয়া-খাড়্গে রাখলেন চরকা আঁকা দলীয় পতাকা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাঠিয়েছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটককে। মুখ্যমন্ত্রীর নামে ফুলের শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন তাঁরা। রাজনৈতিক রোজনামচা শিকেয় তুলে বহুকাল পরে পাও রাখলেন কংগ্রেস অফিসে। মিলিয়ে দিলেন মনমোহন।
‘জনগণমন’ গেয়ে উঠতেই সেনাবাহিনীর দশ অফিসার কাঁধে তুলে নিলেন রজনীগন্ধা আর লাল গোলাপের পাপড়িতে মোড়া কফিন। শকটের সামনে সেনার গাড়িতে উঠে পড়লেন রাহুল। শ্মশানে পৌঁছে মাথায় বাঁধলেন সাদা রুমাল। মনমোহন সিংকে কফিন থেকে বের করতেই শবদেহের পায়ের দিকে কাঁধ দিলেন। চোখের জলও মুছতে দেখা গেল। বড় মেয়ে উপিন্দর মুখাগ্নি করতেই ২১টি তোপধ্বনি। পিছনে পড়ে রইল যাবতীয় বিতর্ক!
সম্পর্কিত সংবাদ