সংবাদদাতা, কাটোয়া: দুষ্কৃতীরা পাঁচিল টপকে স্কুলে ঢুকে ভিতরে অসামাজিক কাজকর্ম চালায়। এমনকী স্কুলের শৌচালয়ও নোঙরা করে রেখে দেয় বলে অভিযোগ। তাই শৌচালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় স্কুল কর্তৃপক্ষ। ফলে আর আগের মতো অবাধে শৌচালয় ব্যবহার করা যাচ্ছিল না। তাই কর্তৃপক্ষকে ‘উচিত শিক্ষা’ দিতে স্কুলের মূল দরজার তালায় মল লেপে দিল দুষ্কৃতীরা। স্কুলগেটের সর্বত্রই মল লেপে দেওয়া হয়েছে। তার জেরে শনিবার সকালে মঙ্গলকোটের লক্ষ্মীপুর এফপি স্কুল খোলাই গেল না। দুর্গন্ধের মধ্যেই স্কুলের বাইরে পড়ুয়াদের নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলেন প্রধান শিক্ষক। মিড ডে মিল রান্নাও করা যায়নি। ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
Advertisement
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, মঙ্গলকোটের লক্ষ্মীপুর এফপি স্কুলের পাঁচিল টপকে রাতভর চলে বাজে আড্ডা। রাতে স্কুল চত্বরে মদ-গাঁজার আসর বসে। এমনকী দুষ্কৃতীরা স্কুলের শৌচালয়ের ভিতরে মলত্যাগ করে চলে যেত। দীর্ঘদিন ধরেই ওই স্কুলে এমন অত্যাচার চলছে। দু’দিন আগেই প্রধান শিক্ষক স্কুলের শৌচালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন। উদ্দেশ্য, শুধুমাত্র স্কুল-পড়ুয়ারাই যাতে শৌচালয় ব্যবহার করতে পারে। ব্যস্! এই রাগেই স্কুলকে উচিত শিক্ষা দিতে স্কুলের গেটের সামনে মলত্যাগ করে লেপে দেওয়া হয়েছে। তালার ভিতরে পর্যন্ত মল লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাতে কেউ স্কুল খুলতে না পারে। এদিন স্কুলে এসে তালায় মল লাগানো দেখে শিক্ষকরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। স্কুল বন্ধই রাখা হয়। দুপুর পর্যন্ত পড়ুয়াদের নিয়ে তাঁরা স্কুলের গেটেই দাঁড়িয়ে থাকেন। মিড ডে মিল রান্না করতে এসে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরাও ফিরে যান। এমন জঘন্য কাজ দেখে অভিভাবকদেরও একাংশও হতবাক। তাঁদের দাবি, পুলিস দোষীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করুক। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিক তাদের। শিক্ষাঙ্গনে এমন কার্যকলাপ কখনই কাম্য নয়। প্রধান শিক্ষক সায়ন সাহা বলেন, স্কুল খুলতে এসে দেখি, গেট ও তালায় প্রচুর পরিমাণে মল লেপে রাখা হয়েছে। প্রচণ্ড দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে। শৌচালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি বলেই এসব করেছে কি না বুঝতে পারছি না। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
জানা গিয়েছে, স্কুলে ১৮০জন পড়ুয়া ও চারজন শিক্ষক রয়েছেন। মিড ডে মিলের কর্মীরাও রয়েছেন। ওই স্কুলের মিড ডে মিল কর্মী কোকিলা খাতুন বলেন, স্কুলের উপর চরম অত্যাচার চলে। এরকম পরিস্থিতিতে আমরা কাজ করতে পারছি না। বিষয়টি প্রশাসনের দেখা উচিত। অভিভাবক মহিদুল শেখ বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে এধরনের জঘন্য কাজ মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই যে বা যারা এসব কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি স্কুল লাগোয়া ঢালাই রাস্তাটির একাংশ বেশ কয়েক মাস ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেটিরও সংস্কার প্রয়োজন।
জানা গিয়েছে, স্কুলে ১৮০জন পড়ুয়া ও চারজন শিক্ষক রয়েছেন। মিড ডে মিলের কর্মীরাও রয়েছেন। ওই স্কুলের মিড ডে মিল কর্মী কোকিলা খাতুন বলেন, স্কুলের উপর চরম অত্যাচার চলে। এরকম পরিস্থিতিতে আমরা কাজ করতে পারছি না। বিষয়টি প্রশাসনের দেখা উচিত। অভিভাবক মহিদুল শেখ বলেন, শিক্ষাক্ষেত্রে এধরনের জঘন্য কাজ মেনে নেওয়া যায় না। আমরা চাই যে বা যারা এসব কাজ করেছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হোক। পাশাপাশি স্কুল লাগোয়া ঢালাই রাস্তাটির একাংশ বেশ কয়েক মাস ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সেটিরও সংস্কার প্রয়োজন।



