Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

মন্দির-মসজিদ নিয়ে আপাতত সমীক্ষা ও নতুন মামলা নয়, নির্দেশ শীর্ষ আদালতের  

মন্দির-মসজিদ নিয়ে আপাতত সমীক্ষা ও নতুন মামলা নয়, নির্দেশ শীর্ষ আদালতের
 
  • ১৩ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নয়াদিল্লি: কাশী, মথুরা, সম্ভল, আজমির... বিতর্কের শেষ কোথায়? মন্দির-মসজিদ বিবাদের অবসান কোন পথে? এই বিতর্কের প্রেক্ষিতেই ১৯৯১ সালের উপাসনাস্থল (বিশেষ ব্যবস্থা) আইনের সাংবিধানিক বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে পেশ হয়েছিল একঝাঁক আবেদন। পূর্ব ঘোষণা মেনেই সেই আবেদনগুলি নিয়ে বৃহস্পতিবার শুনানি হল সুপ্রিম কোর্টের তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চে। আর শুরুতেই একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ জারি করল প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার নেতৃত্বাধীন সেই বেঞ্চ। এদিন শীর্ষ আদালত বলেছে, উপাসনাস্থল সংক্রান্ত এই আবেদনগুলির নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দেশের কোনও আদালত ধর্মীয় স্থান বিবাদের নতুন কোনও মামলা গ্রহণ ও নথিভুক্ত করতে পারবে না। স্থগিত থাকবে সমীক্ষার কাজ। পুরনো বিবাদগুলির মামলায় এখনই কোনও অন্তর্বর্তী বা চূড়ান্ত নির্দেশও দেওয়া যাবে না।   
Advertisement
১৯৯১ সালের উপাসনাস্থল (বিশেষ ব্যবস্থা) আইন অনুযায়ী, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট যে ধর্মীয় স্থান যেমন ছিল, তাকে সেই অবস্থাতেই রাখতে হবে। বদলানো যাবে না তার চরিত্র। তবে ওই আইনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছিল অযোধ্যার রামমন্দির-বাবরি মসজিদ বিবাদকে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে অযোধ্যা বিবাদ এখন অতীত। যদিও আট ও নয়ের দশকের সেই উত্তাল দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে নতুন করে মাথাচাড়া দিচ্ছে মন্দির-মসজিদ বিবাদ। এই মুহূর্তে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি মসজিদ ও দরগার প্রকৃত চরিত্র নির্ধারণ ও এএসআই সমীক্ষার আর্জিতে ১৮টি আবেদন বিচারাধীন বিভিন্ন আদালতে। নতুন নতুন আবেদন পেশ ঘিরে ছড়াচ্ছে উত্তেজনা ও হিংসা। সেই প্রেক্ষিতেই ১৯৯১ সালের উপাসনাস্থল আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা আবেদনগুলি শুনতে গত সপ্তাহে তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ গড়ে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খান্নার সঙ্গেই এই বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং কে ভি বিশ্বনাথন। প্রথম শুনানিতে এদিন বেঞ্চ বলে, ১৯৯১ সালের উপাসনাস্থল আইনের পরিধি সহ বিভিন্ন দিক আমরা খতিয়ে দেখছি। দেশের বাকি সব আদালতকে বলতে চাই, তারা যেন আপাতত হাত গুটিয়ে রাখে। শুনানি চলাকালীন সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশের বিরোধিতা করেন হিন্দু পক্ষগুলির আইনজীবীরা। এরপরই সুপ্রিম কোর্ট বলে, আবেদনগুলির প্রেক্ষিতে চার সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে তাদের অবস্থান নিয়ে বক্তব্য পেশ করতে হবে। কেন্দ্র বক্তব্য পেশের পর অন্যান্য পক্ষগুলি তার আপত্তি জানাতে চাইলে সেজন্য চার সপ্তাহ সময় পাবে। বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন সহ অন্য কেউ এই মামলার সঙ্গে যুক্ত হতে চাইলে তাতে কোনও বাধা থাকছে না।
উপাসনাস্থল আইনকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে মোট ছ’টি আবেদন পেশ হয়েছিল। তার মধ্যেই ছিল বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়ের করা আবেদনটিও। 
সম্পর্কিত সংবাদ