Bartaman Logo
২৯ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দুর্গাপুরে বেআইনি বহুতলের প্রমোটারকে হুঁশিয়ারি দুই বিধায়কের, চলবে বুলডোজার

শহরের একাধিক এলাকায় ফ্ল্যাট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে এবার সরগরম দুর্গাপুরের রাজনীতি। অভিযোগের তির প্রাক্তন তৃণমূল পরিচালিত ডিএমসি ও এডিডিএ-র একাংশ পদাধিকারীর দিকে।

দুর্গাপুরে বেআইনি বহুতলের প্রমোটারকে হুঁশিয়ারি দুই বিধায়কের, চলবে বুলডোজার
  • ২৯ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: শহরের একাধিক এলাকায় ফ্ল্যাট নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে এবার সরগরম দুর্গাপুরের রাজনীতি। অভিযোগের তির প্রাক্তন তৃণমূল পরিচালিত ডিএমসি ও এডিডিএ-র একাংশ পদাধিকারীর দিকে। দুর্গাপুরের নবপল্লি, নতুনপল্লি, ভগৎ সিং নগর থেকে বেনাচিতির শিকন গলি, শহরের একের পর এক আবাসন প্রকল্পে প্রশাসনিক নিয়মনীতি বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইমারত খাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। সেইসব বেআইনি নির্মাণে ‘বুলডোজার’ চালানোর হুঁশিয়ারি দিলেন দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণচন্দ্র ঘোড়ুই। দুর্গাপুর পূর্বের বিজেপি বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের হুঁশিয়ারি, ‘এখন আর ইলিশ মাছ খাইয়ে, উপঢৌকোন দিয়ে কোনো লাভ হবে না। অনিয়ম ধরা পড়লেই অবৈধ নির্মাণ ভাঙতে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।’

Advertisement

অভিযোগ, একটি নির্মাণ সংস্থার বিরুদ্ধে নবপল্লি, নতুনপল্লি, ভগৎ সিং নগর এবং বেনাচিতির শিকন গলি সহ একাধিক এলাকায় বহুতল নির্মাণে বেআইনি কাজের অভিযোগ রয়েছে। ওই নির্মাণ সংস্থার এক অংশীদার প্রদীপ মজুমদার ওরফে হাবু এক প্রাক্তন তৃণমূল নেতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। নবপল্লিতে বহুতলের জলের ট্যাংকের ওপর অতিরিক্ত দু’টি ফ্ল্যাট বানিয়ে বাসিন্দাদের পার্কিংয়ের জায়গা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এই সংস্থার বিরুদ্ধে। ডিএমসি-র আধিকারিকেরা সরেজমিনে সেই আবাসন পরিদর্শন করে অসঙ্গতি খুঁজে পান। অন্যদিকে, নতুনপল্লিতে একই সংস্থার তৈরি ফ্ল্যাটের নীচে বেআইনি জলের রিজার্ভার নিজেই দাঁড়িয়ে থেকে ভেঙে দেন বিধায়ক লক্ষ্মণচন্দ্র ঘোড়ুই। ভগৎ সিং নগরে মাত্র ১০ ফুট রাস্তার ওপরেই নিয়ম ভেঙে বানিয়ে ফেলা হয়েছে ৭ তলার বহুতল, যেখানে পুরসভার আইন অনুযায়ী ন্যূনতম ৩০ ফুট চওড়া রাস্তা থাকা বাধ্যতামূলক। 
দুর্গাপুর পূর্বের বিধায়ক চন্দ্রশেখর বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ‘তৃণমূল জমানায় ইলিশ মাছ খাইয়ে আর মোটা উপঢৌকনের বিনিময়ে ডিএমসি এবং এডিডিএ যৌথভাবে এই সব বেআইনি প্ল্যান পাস করিয়েছে। আর জালিয়াতি ঢাকতে স্রেফ ফাইল গায়েব করে দেওয়া হয়েছে! হাবুর মতো চুনোপুঁটিকে সামনে রেখে পেছনে যারা ব্ল্যাক মানি ঢেলেছে, সেই মূল মাথাদের টেনে বের করতে হবে। দুর্গাপুরের পুর কমিশনারকে বারবার জানিয়েও লাভ হয়নি। তবে স্পষ্ট জানিয়ে দিচ্ছি ইলিশ মাছ বা উপহারের দিন শেষ, প্রতিটি বেআইনি ইমারত ভাঙতে হবে।’
দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক লক্ষ্মণচন্দ্র ঘোড়ুই বলেন, টাকার বিনিময়ে দেওয়া এনওসি-র ভিত্তিতে সারা শহরে কয়েকশো বেআইনি নির্মাণ দাঁড়িয়ে রয়েছে। পুরসভার ইঞ্জিনিয়াররা তা চিহ্নিত করছেন, এবার ভাঙার পালা।
তবে ফাইল গায়েবের অভিযোগ উড়িয়ে ডিএমসি কমিশনার আবুল কালাম আজাদ ইসলাম জানান, ‘কোনো ফাইল গায়েব হয়নি। লিখিত অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ সাফাই গেয়েছেন পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারপার্সেন অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়ও। তাঁর দাবি, ‘অনলাইনে পুরোপুরি নিয়ম মেনে ১৫টি ফাইল পাস হয়েছিল। কোনো দুর্নীতি হয়নি, ফাইল ডিএমসি-তেই আছে।’অন্যদিকে অভিযুক্ত প্রদীপ মজুমদার নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সমস্ত অভিযোগকে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করে বলেন, ‘প্ল্যান অনলাইনে পাস করা। ডিএমসি তদন্ত করুক। যা অভিযোগ উঠছে সব মিথ্যা।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ