সংবাদদাতা, কালনা: কালনা শহর ও শহরতলিতে বহু প্রাচীন মঠ-মন্দির রয়েছে। কিন্তু বাম থেকে তৃণমূল আমলে সেখানে পর্যটনের উন্নয়নে সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। রাজ্যে পালাবদলের পর কালনায় পর্যটনের বিকাশের দাবিতে বিধানসভায় সরব হলেন বিজেপি বিধায়ক সিদ্ধার্থ মজুমদার। তিনি বিষয়টি বিধানসভায় তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করায় খুশি কালনার মানুষ। নতুন বিধায়কের হাত ধরে পর্যটন বিকাশে আশার আলো দেখছেন তাঁরা।
কালনা শহরে দু’তিনশো থেকে ৫০০বছরের প্রাচীন মঠ-মন্দির ও নানা স্থাপত্য রয়েছে। শহরের মাঝে রাজবাড়ি চত্বরে ১০৮ শিবমন্দির রয়েছে। যা প্রাচীন সাদা ও কালো পাথরে নির্মিত। প্রতিটি শিবলিঙ্গ উত্তরদিক নির্দেশ করছে। এছাড়া, ১৭৩৯সালে নির্মিত সুউচ্চ ২৫চূড়া লালজি মন্দির আছে। মন্দিরের সামনে রয়েছে গিরিগোবর্ধন মন্দির। পাশেই প্রতাপেশ্বর মন্দিরে বড় শিবলিঙ্গ রয়েছে। কাছেই রয়েছে সুউচ্চ ২৫চূড়া কৃষ্ণচন্দ্র মন্দির। এছাড়া, রাসমঞ্চ, রূপেশ্বর ও পঞ্চরত্ন মন্দির সহ নানা মন্দির রয়েছে। সবই এক-দেড়শ মিটারের মধ্যে অবস্থিত। প্রতিটি মন্দিরগাত্রে পোড়ামাটির শৈল্যনৈপুণ্য দেখার মতো। এসমস্ত স্থাপত্য ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগের অধীন। এছাড়া, শহরজুড়ে প্রাচীন ২৫চূড়া গোপালবাড়ি, ৫০০বছরের প্রাচীন মহাপ্রভু মন্দির, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, বাসুদেব মন্দির, সাধক ভবাপাগলার ভবার ভবানী মন্দির, সাধক ভগবানদাস বাবাজীর পাতালগঙ্গা, সাধক কমলাকান্তের বাস্তুভিটা, শ্যামসুন্দর মন্দির সহ নানা প্রাচীন মঠ-মন্দির রয়েছে। এত দর্শনীয় স্থান থাকা সত্ত্বেও সেভাবে পর্যটকদের ভিড় না হওয়ায় হতাশ কালনাবাসী। শহরের পাশ দিয়ে ভাগীরথী নদী বয়ে গিয়েছে। নদীর পাড়ের সৌন্দর্যায়ন ও নদীপথে ভ্রমণের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।
কালনার ইতিহাস গবেষক সুমাল্য দাস বলেন, পর্যটকদের জন্য আরও ভালো গেস্ট হাউস, হোটেল, লজ ও পার্কিংয়ের ব্যবস্থা দরকার। প্রাচীন স্থাপত্য সংস্কার হলেও তার ধারাবাহিকতা নেই। পুরাতত্ত্ব বিভাগ আরও যত্নবান হলে ভালো হয়। সিদ্ধার্থবাবুর উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। বিজেপির জেলা সহ-সভাপতি মৌসুমী মণ্ডল বলেন, কালনায় পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও আগের সরকার কোনো পদক্ষেপ করেনি। আমাদের বিধায়ক কালনার পর্যটন সম্ভাবনা বিধানসভায় তুলে ধরেছেন। আমরা আশাবাদী, এবার কালনায় পর্যটনের বিকাশ ঘটবে। কালনা রাজবাড়ি চত্বরে পর্যটকদের ভিড়।-নিজস্ব চিত্র