সংবাদদাতা, কৃষ্ণনগর: অঞ্জনা নদী তীরে চন্দনী গাঁয়ে, পোড়ো মন্দিরখানা গঞ্জের বাঁয়ে...। কালজয়ী এই কবিতার সঙ্গে জড়িয়ে কৃষ্ণনগরের প্রাচীন অঞ্জনা নদীর স্মৃতি। শোনা যায়, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ অঞ্জনা নদীর তীরে বসেই এই কবিতা লিখেছিলেন। একসময় কৃষ্ণনগর শহরের বুক চিরে বয়ে চলা অঞ্জনা ছিল তামাম নদীয়ার গর্ব। সময়ের সঙ্গে সেই নদী আজ কার্যত নালায় পরিণত হয়েছে। এবার সেই হারিয়ে যাওয়া নদীরই সংস্কার ও তাকে পুরানো অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি কৃষ্ণনগর উত্তরের বিধায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায় অঞ্জনা নদীর সংস্কারের কথা বিধানসভায় তুলে ধরেছিলেন। মঙ্গলবার নদীর উৎসস্থলে গিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন বিধায়ক ও কৃষ্ণনগর সদর মহকুমা শাসক-সহ জয়েন্ট সার্ভে টিম। নদীর গতিপথ, দখল, জলপ্রবাহে বাধা এবং সংস্কারের প্রয়োজনীয় জায়গাগুলি চিহ্নিত করতেই এই প্রাথমিক সমীক্ষা।
উল্লেখ্য, কৃষ্ণনগর শহরের উপর দিয়ে বয়ে চলা অঞ্জনা নদীর বেহাল দশা নিয়েই একাধিকবার সরব হয়েছেন পরিবেশ প্রেমীরা। কৃষ্ণনগর থেকে কৃষ্ণগঞ্জ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন রূপ নিয়েছে এই নদী। কোথাও চওড়া হয়ে রয়েছে। কোথাও আবার একদম সরু। শহরের ভিতরে বিভিন্ন জায়গায় অঞ্জনা নদী দখল করে বেআইনি নির্মাণ তৈরির ছবিও ধরা পড়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, অঞ্জনা নদীকে পুনরুজ্জীবিত করতে হলে শুধু একটি অংশ সংস্কার করলেই হবে না। উৎসস্থল থেকে জলঙ্গী নদীর সঙ্গে সংযোগস্থল এবং সেখান থেকে কৃষ্ণগঞ্জ পর্যন্ত গতিপথ সংস্কার করতে হবে। ড্রেজিংয়ের পাশাপাশি নদীর লেভেলও ঠিক রাখতে হবে। তা না হলে ড্রেজিংয়ের পরেও স্বাভাবিকভাবে জলের প্রবাহ বজায় রাখা সম্ভব হবে না। এদিনের সমীক্ষাকে অঞ্জনা নদী পুনরুজ্জীবনের প্রথম ধাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
কৃষ্ণনগরের সদর মহকুমা শাসক মৌলি সান্যাল বলেন, প্রথমে সার্ভের কাজ হবে, এরপর জমি চিহ্নিত করার বিষয় থাকবে। সার্ভের সঙ্গে সঙ্গে ডিপিআর রেডি করতে হবে। বিভিন্ন এলাকার বিএলআরও যারা থাকবেন তাঁরা তুলে ধরবেন কোন কোন মৌজা ধরে নদীটি এগিয়েছিল। সার্ভে করে কোথায় ড্রেজিং দরকার, এছাড়াও আর কি প্রয়োজন সেটা দেখে তারপর সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষ্ণনগরের দীর্ঘদিনের জলের সমস্যা মিটবে। বৃষ্টি হলেও জল জমবে না।
নদী বিশেষজ্ঞ সুপ্রতিম কর্মকারের কথায়, প্রকৃত বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে নদীর সংস্কার হয়নি অতীতে । নদী থেকে মাটি কাটলেই সংস্কার হয়, এমন নয়। অঞ্জনা নদীর অববাহিকার চরিত্র কিন্তু বেশ জটিল। কাজেই অববাহিকাকে নিখুঁত ভাবে বুঝে নদীর সংস্কার করতে হবে। না হলে অঞ্জনা নদী বাঁচানো যাবে না।
ছাব্বিশের নির্বাচনের সময় স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীও এই নদী সংস্কারের কথা বলেছিলেন। ফলে প্রাথমিক সমীক্ষার পর পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তৈরি করে অঞ্জনাকে ফের স্বাভাবিক জলপ্রবাহে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অঞ্জনা নদী নিয়ে শুরু প্রাথমিক সার্ভে। -নিজস্ব চিত্র