Bartaman Logo
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সুন্দরবনে জনশূন্য দ্বীপে পাঁচতারা ট্রি হাউজ, পরিকল্পনা মিঠুন চক্রবর্তীর, বনাঞ্চলের পরিবেশ নষ্ট হবে না তো? প্রশ্ন

সুন্দরবনে কি এবার তৈরি হতে চলেছে বিলাসবহুল ট্রি হাউজ। দূরে নিরিবিলি পরিবেশে তৈরি হতে পারে গাছ বাড়ি।

সুন্দরবনে জনশূন্য দ্বীপে পাঁচতারা ট্রি হাউজ, পরিকল্পনা মিঠুন চক্রবর্তীর, বনাঞ্চলের পরিবেশ নষ্ট হবে না তো? প্রশ্ন
  • ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সুন্দরবনে কি এবার তৈরি হতে চলেছে বিলাসবহুল ট্রি হাউজ। দূরে নিরিবিলি পরিবেশে তৈরি হতে পারে গাছ বাড়ি। তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। কারণ এই পরিকল্পনা করেছেন রাজ্যের তথ্যসংস্কৃতি দপ্তরের উপদেষ্টা মিঠুন চক্রবর্তী। সেটি প্রস্তাব আকারে দেওয়া হবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে।

Advertisement

রবিবার সুন্দরবনে বিধায়ক বিকর্ণ নস্কর ও প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে এ নিয়ে একপ্রস্থ আলোচনা করেন মিঠুন। তারপর সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, ‘সুন্দরবনের প্রায় ৮-৯টি দ্বীপ আছে যেখানে কোনো বসবাসকারী নেই। সেখানে ট্রি হাউজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পিপিপি মডেলে তা হবে। হয় কোনো কোম্পানি বা ব্যক্তিকে সেই জায়গা লিজ দেওয়া হতে পারে। অথবা সেটা কিনতে পারে তারা। পুরোটাই হবে পাঁচতারা হোটেলের ধাঁচে। তবে অবশ্যই হবে পরিবেশবান্ধব। কোনো কংক্রিটের নির্মাণ হবে না। পাঁচতারার নীচে হবে না। ট্রি হাউজ তৈরি হলে স্থানীয়ভাবে ৭০-৮০ শতাংশ মানুষকে নিয়োগ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হবে। এতে কর্মসংস্থান বাড়বে।’
এই পরিকল্পনা বাস্তব হলে সুন্দরবনের জঙ্গলের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না তো? উঠছে প্রশ্ন। পরিবেশবিদদের মতে, ম্যানগ্রোভ ঘেরা জঙ্গলের অনেক দ্বীপে প্রচুর পাখি আসে। হোটেল তৈরি হলে তাদের উপর প্রভাব পড়বে। তাছাড়া এই সব জায়গায় পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। ফলে সংশয় থেকে যাচ্ছে। যদিও উপদেষ্টার বক্তব্য, এমন কোনো কাজ হবে না যা আইন বা বনদপ্তরের নিয়ম লঙ্ঘন করে।
এর পাশাপাশি মিঠুন একাধিক প্রস্তাব তৈরি করেছেন। তিনি বলেন, ‘সুন্দরবনে মা মনসা, বনবিবি সহ বেশ কিছু মন্দির সংস্কার করা হবে। সেগুলি ধর্মীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসাবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে। গ্রামে বসানো হবে হাট। সেখানে পর্যটকরা গিয়ে স্থানীয় সামগ্রী কেনাকাটার পাশাপাশি লোকগীতির আনন্দ নিতে পারবেন। ডলফিন সাফারির পরিকল্পনাও রয়েছে। আকাশ পথে বাঘ দর্শন করানো যায় কি না সেটাও ভাবা হচ্ছে।’ এসব প্রস্তাব আকারে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে দেওয়া হবে বলে মিঠুনবাবু জানান। মুখ্যমন্ত্রী সবুজ সংকেত দিলে শুরু হবে কাজ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ