


রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: অ্যাসবেস্টসের ছাউনি দেওয়া কোঠা ঘর। বারান্দায় পাশাপাশি টাঙানো তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি। দাওয়ায় বসে শুকনো মুড়ি আর চা খাচ্ছিলেন ষাটোর্ধ্ব গোপালবাবু। তিনি আরামবাগের তৃণমূল প্রার্থী মিতা বাগের স্বামী। টোটো চালান। স্বামী ছাড়াও মেজো মেয়ে, পুত্রবধূ, নাতি-নাতনিদের নিয়ে ভরা সংসার মিতাদেবীর। ঘড়ির কাঁটায় তখন সকাল ৭টা। সংসারের কিছু কাজ সেরে ছাই রঙের শাড়ি পরে তৈরি হয়ে নিলেন মিতাদেবী। শাড়িতে লাগালেন দলীয় প্রতীক। একটি ব্যাগে কিছু মুড়ি, কয়েকটা শুকনো মিষ্টি নিয়ে উঠলেন গাড়িতে। গন্তব্য, মইগ্রাম। সেখান থেকেই এদিনের প্রচার শুরু। গাড়িতে যেতে যেতে নেতাকর্মীদের সঙ্গে ফোনে কথা সেরে নিলেন। ফোনে কাউকে নির্দেশ দিলেন, পাড়ায় পাড়ায় কমিটি গড়ে প্রচারে নামতে। কেউ আবার তাঁকে ফোনে নানা কৌশলও বাতলে দিচ্ছিলেন। কর্মীদের রাস্তায় দাঁড়াতে বলছিলেন। গাড়ি ছুটল ডিহিবাগনানের দিকে। ক্যারিব্যাগে নেওয়া শুকনো মুড়ি খেতে শুরু করলেন মিতাদেবী। চালককেও দিলেন।
রাস্তায় যেতে যেতে বলছিলেন, আমার মতো একজনকে দল খুঁজে খুঁজে প্রার্থী করেছে। তাই দলের জন্য ভোট করতেই হবে। আরামবাগ ব্লকে দীর্ঘদিন ধরে মহিলা সংগঠনের কাজ করছি। ফলে পুরো বিধানসভা এলাকাতেই আমাকে মানুষ চেনেন। কর্মীদেরও বলেছি বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের কাছে আমাকে ভোট দেওয়ার জন্য বলতে।
ডিহিবাগনানে অপেক্ষা করছিলেন দলীয় কর্মীরা। তৃণমূল প্রার্থী গাড়ি থেকে নামতেই উঠল স্লোগান। সকালে ডিহিবাগনান সবজি বাজারে তখন বহু মানুষের ভিড়। তৃণমূল প্রার্থী প্রত্যেকের কাছেই করজোড়ে ভোট চাইতে শুরু করলেন। বয়স্কদের পা ছুঁয়ে প্রণাম করলেন। মহিলাদের জড়িয়ে ধরে ভোট চাইলেন। কাছেই একটি মন্দিরে গিয়ে প্রণাম করে ছড়ালেন বাতাসা। সেখান থেকে গৌরহাটি বাজার। সেখানেও দলীয় কর্মীদের সঙ্গে দেখা করে নেমে পড়েন ভোট প্রচারে। তৃণমূল প্রার্থীকে দেখতে রাস্তার ধারের হাটে বহু মানুষ উৎসাহী হয়ে ওঠেন। মহিলা সবজি বিক্রেতাদের অনেকের কাছেই ফুল রাখাই ছিল আগে থেকে। প্রার্থীকে দেখে অনেকেই ফুল ছুঁড়ে অভ্যর্থনা জানান। মিতাদেবী সেখানেও একটি মন্দিরে গিয়ে প্রণাম করেন। গৌরহাটি বাজারে প্রচার সেরে ফের ওঠেন গাড়িতে। দলীয় কর্মীর দেওয়া চপ মুড়ি খেতে খেতে রওনা দিলেন ডোঙ্গল বাজারের দিকে। সেখানেও কর্মীদের জমায়েত ছিল। তৃণমূল প্রার্থী তাঁদের সঙ্গে দেখা করে প্রচারে নেমে পড়েন। ব্যবসায়ীদের কাউকে বললেন, আমি আপনাদের বোনের মতো। ভোটটা দেবেন। কাউকে আবার বললেন, আমি আপনার মেয়ের মতো। ২৯ এপ্রিল ভোট দেবেন। এভাবে মানুষের সঙ্গে মিশে গেলেন সহজেই। দলের প্রচার গাড়ি থেকে তখন মাইকে বলা হচ্ছে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য ভোট দিন। ১০০ দিনের কাজ বন্ধের প্রতিবাদে ভোট দিন। আরও নানা প্রকল্পের প্রচার শোনা যায়। মিতাদেবীর সঙ্গে সেখানে প্রচারে যোগ দেন আরামবাগ পুরসভার চেয়ারম্যান সমীর ভান্ডারী, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শিশির সরকার, ব্লক সভাপতি শম্ভু বেরা সহ অনেকেই। দুপুর পর্যন্ত এভাবেই বিভিন্ন জায়গায় জনসংযোগ সারেন। তিনি বলছিলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুখ্যমন্ত্রী হলে তবেই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত থাকবে। আরামবাগে দ্বারকেশ্বরের উপর বিকল্প সেতু তৈরি করতে হবে। কৃষি নিয়েও কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। ডোঙ্গল বাজারে প্রচার সেরে প্রার্থী যান গোঘাট। সেখানে এক তৃণমূল কর্মীর স্ত্রী বিয়োগের সমবেদনা জানিয়ে ট্রেনে ওঠেন। ট্রেনে প্রচার করতে করতে মায়াপুর হয়ে আরামবাগে ফেরেন সন্ধেবেলা। নিজস্ব চিত্র