নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: হাবড়ায় চলছে চূড়ান্ত গোপনীয়তা। দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করা হচ্ছে যুদ্ধবিমান রাফাল এবং ব্রহ্মাস্ত্র। এছাড়া দেশের প্রতিরক্ষায় ব্যবহৃত রেডার এবং ক্ষেপণাস্ত্রও তৈরি হচ্ছে। তাহলে কি যুদ্ধ আসন্ন। ‘আরে না না,’ বলছেন শিবু দাস। তিনি শিল্পী। পুজোর মণ্ডপ তৈরি করছেন হাবড়ায়।
হাবড়া শহরের আশুতোষ কলোনিতে চারমাস ধরে রাফাল, লকেট লঞ্চার, ইত্যাদি তৈরি করছেন শিবুবাবু। দুর্গাপুজোয় এই সামরিক শক্তিগুলি দেখতে পাবে মানুষ। বাগুইআটির অভিযাত্রী ক্লাবের পুজো প্যান্ডেলের থিম ‘অপরেশন ত্রিনেত্র’। প্রায় ১৫ জন শিল্পী দিনরাত পরিশ্রম করে বানিয়ে চলেছেন যুদ্ধসামগ্রী। স্বাধীনতা পরবর্তীকালে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপর ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ থেকে অপারেশন সিঁদুরে ব্যবহৃত আধুনিক সামরিক অস্ত্র ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে প্যান্ডেলের জন্য। ২৪ ফুট লম্বা ও ১৭ ফুট চওড়ার রাফাল যুদ্ধবিমান যেন হুবহু উঠে আসছে মণ্ডপে। সঙ্গে শত্রুপক্ষকে চিহ্নিত করা ঘুরন্ত রেডার। এসব দেখলে মনে হবে যুদ্ধ শুরু হল বলে। তবে যেহেতু এগুলি কোনওটাই বাস্তব যুদ্ধের জন্য নয় তাই থাকবে উন্মুক্ত। দেখার অঢেল সুযোগ।
মণ্ডপের সামনে বাজবে সাইরেন। যুদ্ধাস্ত্র ছোঁড়ার পর যেমন ধোঁয়া দেখা যায় বা শব্দ শোনা যায়, তা শুনতে পাবেন দর্শনার্থীরা। প্রায় পাঁচ কাঠা জমিজুড়ে থাকবে অস্ত্র। সঙ্গে মানানসই আলোকসজ্জা। রাফাল তৈরি হচ্ছে টিন ও লোহা দিয়ে। মিসাইল আর ব্রহ্মাস্ত্র প্লাই, কাঠ, থার্মোকলে। এছাড়াও আধুনিক ড্রোন মেটাল ও লোহা কাজে লাগছে। ড্রোন সবসময় উড়বে। সেটি বরণ করবে দেবীকে। মণ্ডপে বসানো থাকবে রেডার। ব্রহ্মাস্ত্রের উচ্চতা ১১ ফুট আর পাঁচ ফুট উচ্চতার রকেট লঞ্চার মিসাইল। শিল্পী বলেন, ‘অস্ত্রসজ্জা দেখলে অনেকেই চমকে যাবেন। কেবলমাত্র ব্রহ্মাস্ত্রটি এক জায়গায় বসানো থাকবে। বাকি অস্ত্র ইলেকট্রিকের সাহায্যে ঘোরাফেরা করবে। যুদ্ধক্ষেত্রের যে ছবি মানুষ টিভিতে দেখেন সেরকমই একঝলক দেখতে পাবেন এখানে।’ শিল্পীর বিশ্বাস, নয়া ভাবনা মানুষের মন কাড়বে। পুজো কমিটির সম্পাদক সুজিত হীরা বলেন, ‘এবার আমাদের ৩৯তম বর্ষ। আশা করছি এবারও দর্শকদের নজরে থাকব আমরা।’ -নিজস্ব চিত্র