Bartaman Logo
১১ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

মাঝ রাতে মিসাইল হানা, ঘরের ভিতর থাকতে বলেছে প্রশাসন

শনিবার রাত তখন দেড়টা। প্রথম মিসাইল পড়ল দুবাইয়ের শারজা এলাকায়। পবিত্র রমজান মাস। মসজিদে আজানের শব্দ আসছিল

মাঝ রাতে মিসাইল হানা, ঘরের ভিতর থাকতে বলেছে প্রশাসন
  • ২ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রিপন শেখ, বেসরকারি সংস্থার কর্মী: শনিবার রাত তখন দেড়টা। প্রথম মিসাইল পড়ল দুবাইয়ের শারজা এলাকায়। পবিত্র রমজান মাস। মসজিদে আজানের শব্দ আসছিল। আমরা তখন ঘরে রান্না করার তোড়জোড় করছিলাম। মিসাইল হানার শব্দে ছুটে বাইরে বেরিয়ে যাই। দেখি আমাদের মতো কয়েকশো মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েছে। কী করব কিছু বুঝতে পারছি না। প্রশাসনের তরফে মাইকিং করে সবাইকে ঘরের ভিতর থাকতে বলা হয়। তারপরই একের পর এক মিসাইল দুবাইয়ের বিভিন্ন জায়গায় আছড়ে পড়ে। সাজানো জায়গায় অশান্তির আবহ।

Advertisement

আমরা এখানে বেসরকারি সংস্থায় কাজ করি। সবাই রুটিরুজির জন্য বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে রয়েছি। বাড়িতে মাসের শেষে টাকা পাঠাতে হয়। পরিবারের সবাই আমাদের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু, আমাদের সেই কাজের জায়গাতেই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। বাবা-মা ঘন ঘন ফোন করছে। রবিবার সকালে নামাজ পড়ে কাজে যোগ দিতে যাওয়ার সময়ও চোখের সামনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা দেখলাম। দিনরাত বিরাম নেই। আকাশের দিকে তাকাতেই ভয় লাগছে। মিসাইলের আওয়াজে কানের পর্দা ফেটে যাচ্ছে। কালো ধোঁয়ায় চারদিক ঢেকে যাচ্ছে। 
আমাদের সংস্থার লোকজন সতর্ক বার্তা দিয়েছে। কিন্তু, রাস্তায় না বের হলে খাবার পাব কোথায়? রমজান মাসে এভাবে মিসাইল হামলা দেখে মন ভালো নেই। এবার দেশে ফিরলে আর বিদেশে আসব না। দেশে যা হোক একটা কিছু করব। শারজা এলাকায় দু’দিনে বহু ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়েছে। আকাশে ড্রোন উড়ছে। আমরা যে বিল্ডিংয়ে রয়েছি সেখানে ছাদে যেতে নিষেধ করেছে। রাস্তায় সবাই ছোটাছুটি করছে। কখন যে কী হবে কিছুই বুঝতে পারছি না। দুবাইতে চোখের সামনে যা ক্ষয়ক্ষতি চোখের সামনে দেখছি তাতে আমাদের রাজ্যে এমনটা হলে কয়েক বছরেও সামলাতে পারবে না। দুবাই বলেই হয়তো সম্ভব। যেখানে মিসাইল পড়ছে তার কিছুক্ষণের মধ্যেই কালো চিহ্নগুলো সব মুছে ফেলা হচ্ছে। যুদ্ধ বন্ধ হোক, এটাই আমরা চাই। (লেখক: দুবাইয়ে বসবাসকারী মঙ্গলকোটের বাসিন্দা)

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ