সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বিষ্ণুপুরে রোগী সেজে চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ডাকাতির চেষ্টার ঘটনায় দুষ্কৃতীরা এখনো ধরা পড়েনি। তারা কোন পথে গিয়েছে, তা সিসিটিভির ফুটেজের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করছে পুলিশ। কয়েকটি ফুটেজ থেকে জানা গিয়েছে, দুষ্কৃতীরা সংখ্যায় মোট ছ’জন ছিল। তারা দু’টি বাইকে এসেছিল। একই বাইকে তারা রেলওয়ে ওভারব্রিজের দিকে যায়। তারপর তারা ওভারব্রিজে ওঠে নাকি ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক ধরে বাঁকাদহের দিকে যায়, সেই সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। রবিবার ভরসন্ধ্যায় শহরের তুঁতবাড়ি এলাকায় হোমিওপ্যাথি চিকিৎসকের চেম্বারে ঢুকে ডাকাতির চেষ্টা। বাধা পেয়ে দুষ্কৃতীরা গুলি চালানোর ঘটনায় শহরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। দুষ্কৃতীরা ধরা না পড়ায় তুঁতবাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
বিষ্ণুপুরের এসডিপিও অঞ্জলি সুগা বলেন, দুষ্কৃতীদের ধরার জন্য তদন্ত চলছে। এর বেশি কিছু এখনই বলা সম্ভব নয়। সিসিটিভি ফুটেজ সহ অন্যান্য দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, রবিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা নাগাদ তুঁতবাড়ি এলাকার বাসিন্দা হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক চন্দ্রশেখর দাসের চেম্বারে দুই যুবক রোগী সেজে ঢোকে। চিকিৎসকের শরীর অসুস্থ থাকায় তিনি চেম্বার লাগোয়া বাড়ি থেকে তাঁর ছেলে চিরঞ্জিৎ দাসকে ডাকেন। তিনি আসার পরেই দুই যুবক রোগীর পরিবর্তে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয়। চন্দ্রশেখরবাবুর বিরুদ্ধে ড্রাগের কেস রয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে এসেছে বলে তারা জানায়। সন্দেহ হওয়ায় চিরঞ্জিৎবাবু তাদের পরিচয়পত্র দেখতে চান। তখনই তারা স্বমূর্তি ধারণ করে। পকেট থেকে রুমাল বের করে চিকিৎসকের মুখ চাপা দিয়ে চেয়ার থেকে ঠেলে ফেলে দেন। চিরঞ্জিৎবাবু চিৎকার করলে চেম্বারের বাইরে অপেক্ষা করা আরও চার দুষ্কৃতী ভিতরে ঢোকে। বাড়ির ভিতর থেকে চিকিৎসকের স্ত্রী পূর্ণিমা দাস ও শ্যালক অশোক চক্রবর্তী চলে আসেন। তখন একজন দুষ্কৃতী চিরঞ্জিতের গালে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকায়। তা দেখে অশোকবাবু উপস্থিত বুদ্ধি কাজে লাগিয়ে একটি জলের বোতল এনে দুষ্কৃতীদের দিকে অ্যাসিড ছোড়ার হুমকি দেন। তাতেই দুষ্কৃতীরা ভয় পেয়ে যায়। চিরঞ্জিৎবাবুকে ছেড়ে তারা পালিয়ে যায়। বাইকে চেপে পালানোর সময় চিরঞ্জিৎ এবং অশোকবাবু বেশ কিছুটা পিছু ধাওয়া করেন। তখন এক দুষ্কৃতী গুলি চালায় বলে চিরঞ্জিৎবাবুর দাবি। যদিও তা লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তিনি প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনা জানাজানি হতেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। তদন্তে আসেন বিষ্ণুপুরের এসডিপিও এবং থানার আইসি। তাঁরা তৎক্ষণাৎ বিভিন্ন পয়েন্টে নাকা চেকিং বসালেও দুষ্কৃতীদের নাগাল পাওয়া সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলে দুষ্কৃতীদের ফেলে যাওয়া একটি জুতো সংগ্রহ করা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। তা থেকেই দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।