নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বুদবুদ থানার মানকরের অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়াকে দুর্গাপুরের হোটেলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণের ঘটনার পর হোটেলগুলির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। শহরের হোটেলগুলি কেন এই অরাজকতাকে প্রশয় দিচ্ছে? কেন অভিযুক্ত হোটেল মালিককে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না? এই আবহে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে কয়েকদিন আগেই দুর্গাপুরে হোটেল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছিল আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। সেখানেই নানা বিষয় উঠে এসেছে।
পরিবারের সদস্য ছাড়া কোনো নাবালিকাকে যেন অপরিচিত কারও সঙ্গে হোটেলে রুম না দেওয়া হয় সেবিষয়ে পুলিশ মালিকদের সতর্ক করে। সেই প্রসঙ্গ টেনে ব্যবসায়ীদের একাংশ জানিয়েছেন, এখনকার ছেলে-মেয়েরা অনেক বেশি স্মার্ট। কেউ বোরখা পরে কেউ এমনভাবে মুখ ঢেকে হোটেলে আসছেন তাঁদের বয়স ধরা যাচ্ছে না। এমনকী পরিচয়পত্রের সঙ্গে মুখ মিলিয়ে দেখারও সুযোগ থাকছে না। সিসি ক্যামেরাতেও তাঁর ছবি ধরা পড়ছে না। মেয়েরা মুখের পর্দা তুলছে রুমের ভিতর গিয়ে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ হোটেল মালিকদের পরামর্শ দিয়েছেন, তাঁরা যেন রিসেপশনে মহিলা কর্মী রাখেন। যাতে সন্দেহ হলে ওই মহিলা রিসেপসনিস্ট মহিলার মুখ দেখতে পারেন। এছাড়াও দু’জন আবাসিকের বয়সের পার্থক্য, আচরণ সন্দেহজনক হলেই তা পুলিশকে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আসানসোল, দুর্গাপুরের হোটেল ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে পুলিশকে অনুরোধ করা হয় তাঁদের রিসেপশনে থাকা কর্মীদের পুলিশ যেন প্রশিক্ষণ দেয়। যাতে তাঁরা সহজেই অসামঞ্জস্য ধরতে পারেন। পুলিশ ব্যবসায়ীদের এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছে।
পুলিশের দাবি, শুধু হোটেলে গণধর্ষণের ঘটনা নয়, শহরের বিভিন্ন হোটেলে নানা অসামাজিক কাজের অভিযোগ উঠছে। পুলিশ জানিয়েছে বহু ক্ষেত্রেই ধর্ষণের অভিযোগ আসছে। যেখানে মূল অভিযোগ বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে হোটেলে গিয়ে সহবাস। সেই সব তদন্ত যাচাই করতে গিয়েই ধরা পড়েছে বহু ক্ষেত্রেই আবাসিকদের পরিচয় সঠিক ভাবে যাচাই করা হয় না। তাঁদের পরিচয়পত্রের জেরক্সও হোটেল কর্তৃপক্ষ রাখছে না। এই বিষয়টি যে বরদাস্থ করা হবে না পুলিশ তা স্পষ্ট করে দিয়েছে। আসানসোল, দুর্গাপুরের পাশাপাশি মাইথন ও কল্যানেশ্বরীর হোটেলগুলিকেও বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু, শুধু হোটেল নয়, পুলিশের কাছে বিভিন্ন ফাঁকা বাড়ি, ফ্ল্যাটেও দেহব্যবসা চলার অভিযোগ আসছে। দুর্গাপুরেও এই ধরনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রাজবাঁধের মতো গ্রামীণ এলাকাতেও বাড়িতে দেহব্যবসা চলছে। অনেকেই সরাসরি পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগ করছেন। একাংশের দাবি, দুর্গাপুরের বিভিন্ন পার্লারেও এই ধরনের চক্র সক্রিয়। সেখানে এই কাজে ছাত্রী, নাবালিকারাও জড়িয়ে পড়ছে। অনেক সময়ে স্থানীয় পুলিশকে জানিয়ে কাজ হয় না। তাই অভিযোগ আসছে পুলিশের শীর্ষ স্তরে। পুলিশ কমিশনার প্রণব কুমার বলেন, ব্যবসায়ী বলছিলেন বোরখা পরে অনেকেই বয়স আড়াল করছেন। আমরা পরামর্শ দিয়েছি, মহিলা কর্মী রাখার জন্য। হোটেল কর্মীদের আমরা প্রশিক্ষণও দেব। হোটেলে কোন নিয়ম বিরুদ্ধ কাজ বরদাস্ত করা হবে না।