নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বাড়ির সামনেই জগৎমাতা কালীমন্দিরে অমাবস্যার পুজো উপলক্ষ্যে চলছিল ভোগ বিতরণ। কিছুদূর এগলেই জমজমাট চ্যাটার্জিহাট বাজার, ঢিল ছোড়া দূরত্বে চ্যাটার্জিহাট থানা। সেই জনবহুল এলাকায় সোমবার রাত প্রায় সাড়ে ১০টা নাগাদ ব্যবসায়ীর বাড়িতে ঢুকে ১৭ বছরের এক কিশোর ও তার ১২ বছরের বোনের মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার সোনার গয়না ও নগদ লুট করে পালায় তিন মুখোশধারী দুষ্কৃতী। শরৎ চ্যাটার্জি লেনের এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একইসঙ্গে গোটা ঘটনার একাধিক রহস্যজনক দিক ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে হাওড়া সিটি পুলিশ।
শরৎ চ্যাটার্জি লেনের চারতলা বাড়ির দোতলায় থাকেন ব্যবসায়ী সুমন বোস। মন্দিরতলায় তাঁর ওষুধ ও ফাস্টফুডের দোকান। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে সুমনবাবু ও তাঁর স্ত্রী কেয়াদেবী দোকানে ছিলেন। বাড়িতে ছিল ছেলে সম্রাজ ও মেয়ে শ্রীদাত্রী। অভিযোগ, রাত প্রায় সওয়া ১০টা নাগাদ সম্রাজ দোতলার মূল দরজা খুলতেই কালো মুখোশ ও হ্যান্ড গ্লাভস পরা তিন দুষ্কৃতী আচমকা তাকে ধাক্কা মেরে ঘরে ঢুকে পড়ে। এক দুষ্কৃতী নাবালিকার মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ধরে। বাধা দিতে গেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে সম্রাজের হাতে কোপ মারা হয় বলে অভিযোগ। পরিবারের দাবি, পোষ্য সারমেয়কেও মারধর করা হয়। এরপর আলমারি ভেঙে ১৫০ গ্রামেরও বেশি ওজনের সোনার গয়না এবং প্রায় ৫০ হাজার টাকা লুট করে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সম্রাজ সংজ্ঞা হারায়। ভয়ার্ত অবস্থায় শ্রীদাত্রী বাবা-মাকে ফোন করে। খবর পেয়ে পরিবার ও পরে চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে।
কেয়াদেবীর দাবি, বাড়ির নীচের গেটে তালা থাকে না, সিসি ক্যামেরাও নেই। কারও সঙ্গে তাঁদের শত্রুতা নেই। অন্যান্য দিনের মতো সোমবার মেয়ে তাঁকে একাধিকবার ফোন করছিল বলে প্রথমে তিনি বিষয়টিকে আমল দেননি। এরপর সুমনবাবুর কাছে ফোন যেতেই তাঁরা ঘটনার কথা জানতে পারেন। কেয়াদেবী বলেন, ঘটনার আগের দিন সুমনবাবু একটি ব্যাংকে ঋণ সংক্রান্ত কাজে গিয়েছিলেন। এদিন সকালে ঘটনাস্থলে যান হাওড়া সিটি পুলিশের পদস্থ কর্তারা। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনার বিভিন্ন দিক ঘিরে ধোঁয়াশা বাড়ছে। একতলার বাসিন্দার প্রশ্ন, দোতলায় এতবড়ো ঘটনা ঘটলেও তিনি কোনো চিৎকার বা শব্দ শুনতে পাননি। এমনকি, সারমেয়র ডাকও শোনা যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার সময় মন্দিরের সামনে ভোগ নেওয়ার জন্য বহু মানুষ দাঁড়িয়েছিলেন। তিন অপরিচিত ব্যক্তি বেরিয়ে গেলে কারও না কারও নজরে পড়ার কথা। এক পুলিশ আধিকারিক জানান, বক্সার প্রজাতির সারমেয় সাধারণত আক্রমণাত্মক হয়, অথচ তার উপর আক্রমণ করা হলেও তার আচরণে কোনো অস্বাভাবিকতা মেলেনি। হাওড়া সিটি পুলিশের এক কর্তার বক্তব্য, ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। -নিজস্ব চিত্র