নাবালকের গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন, তোলা হল ভিডিয়োও, গড়ফায় পাড়ার ছেলেদের অকথ্য অত্যাচার, ধৃত ৪
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রথমে হেলমেট পরিয়ে চোখ বেঁধে মাথায় চাঁটি। বিরক্ত হয়ে হেলমেট খোলার পর পেট্রল খাওয়ানোর চেষ্টা। তা সরিয়ে দিতেই গায়ে পেট্রল ঢেলে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা। ভিডিয়ো করে তৈরি হয় নাবালক নিগ্রহের রিলও! নারকীয় এই ঘটনা ঘটেছে খাস কলকাতার গড়ফা এলাকার নেলিনগরের একটি পুকুর পাড়ে। কিশোরের উপর অকথ্য এই অত্যাচারের ঘটনা জানার পরই দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। খুনের চেষ্টার মামলা রুজু করে ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অর্ঘ্য সাহা সহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাকড়াও করা হয়েছে দুই নাবালককেও।

Advertisement

ঘটনাটি ২৭ অক্টোবরের। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, নির্যাতিত নাবালক গড়ফা এলাকার নেলিনগরের বাসিন্দা। অত্যন্ত সাদামাটা ওই কিশোরের সঙ্গে পাড়ার সকলেই বিভিন্নভাবে মজা করত। সেদিন ওই কিশোর পুকুর পাড়ে দাঁড়িয়েছিল। এই সময় অর্ঘ্যর নেতৃত্বে বেশ কয়েকজন হাজির হয়। তাদের মধ্যে কয়েকজন নাবালক ছিল। শুরু হয় ‘খেলা’। হেলমেট পরিয়ে চোখ বেঁধে মাথায় চাঁটা মারা হবে। কে মারল তার নাম বলতে হবে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও খেলতে বাধ্য হয় সে। দশ-বারোটি চাঁটি মারার পরও সে বলতে পারেনি কে মারছে। শুরু হয় আরও জোরে মার। এতে বিরক্ত হয়ে হেলমেট খুলে ফেলে সে। কেন বিনা অনুমতিতে হেলমেট খুলল, তা নিয়ে ধমকায় মূল অভিযুক্ত ও নাবালকরা। মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন চলতে থাকে।  এরপর অর্ঘ্য বাইক থেকে পেট্রল বের করে একটি ছিপিতে ঢালে। হেলমেট ও চোখের বাঁধন খুলে ফেলার শাস্তি হিসেবে তাঁকে জোর করে পেট্রল খাওয়ানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু পেট্রলের গন্ধ পেয়ে তা হাত দিয়ে সরিয়ে দেয় কিশোর। এরপর অর্ঘ্য ওই পেট্রল তার গায়ে ঢেলে দেয় বলে অভিযোগ। পাকড়াও হওয়া এক নাবালকের কাছ থেকে দেশলাই কাঠি নিয়ে জ্বালিয়ে  ছুঁড়ে দেওয়া হয় কিশোরের উপর। সঙ্গে সঙ্গেই তার জামায় আগুন ধরে যায়।  
প্রাণে বাঁচতে ওই অবস্থায় সে দৌড় শুরু করে। কোনোক্রমে জামাও ছিঁড়ে ফেলে। স্থানীয় কয়েকজন কিশোরকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় দৌড়তে দেখে এগিয়ে আসেন। খবর দেওয়া হয় তার পরিবারকে। আসেন গড়ফা থানার অফিসাররাও। শরীরের সামান্য অংশ পুড়ে যাওয়ায় ওই কিশোরকে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে ভরতি করা হয় তাকে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তল্লাশি চালিয়ে দু’জনকে গ্রেপ্তার ও দুই নাবালককে পাকড়াও করে পুলিশ। 
তদন্তে নেমে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পারে, অভিযুক্তরা ভিডিয়ো রিলস তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে। এই নির্যাতনেরও ভিডিয়ো করেছিল এক নাবালক। উদ্দেশ্য ছিল রিলস বানিয়ে পোস্ট করা। সেই সঙ্গে নির্যাতিতকে শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল, পুলিশের কাছে সে যেন বলে রিলস বানানোর জন্য এই কাজ করছিল। কেউ তাকে নির্যাতন করেনি!