Bartaman Logo
৩০ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সমুদ্রে মৎস্যশিকারে বিপদ এড়াতে ট্রলারে ট্রান্সপন্ডার চালুর পরামর্শ দিলেন মন্ত্রী

গভীর সমুদ্রে মৎস্যশিকারে গিয়ে বিপদ এড়াতে ট্রলার-লঞ্চে থাকা ‘টু ওয়ে কমিউনিকেশন ট্রান্সপন্ডার’ সবসময় চালু রাখতে হবে।

সমুদ্রে মৎস্যশিকারে বিপদ এড়াতে ট্রলারে ট্রান্সপন্ডার চালুর পরামর্শ দিলেন মন্ত্রী
  • ৩০ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: গভীর সমুদ্রে মৎস্যশিকারে গিয়ে বিপদ এড়াতে ট্রলার-লঞ্চে থাকা ‘টু ওয়ে কমিউনিকেশন ট্রান্সপন্ডার’ সবসময় চালু রাখতে হবে। আবহাওয়া দপ্তরের নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। মৎস্যজীবীদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে এরকম বেশকিছু নিময়-নির্দেশিকা মেনে চলার বার্তা দিলেন মৎস্য মন্ত্রী রাজেশ মাহাতো সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বুধবার দীঘায় সমুদ্রগামী মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক সচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করে মৎস্য, জলজ প্রাণী বিকাশ, জলজসম্পদ ও মৎস্যবন্দর দপ্তর ও পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। কিছুদিন আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বকখালির চরে শংকপুর মৎস্যবন্দরের ট্রলারডুবির ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে ১৫ মৎস্যজীবীর। তারপর সম্প্রতি ওই দুর্ঘটনায় মৃত ও নিখোঁজ মৎস্যজীবীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সচেতনতা কর্মসূচি আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছিলেন মৎস্যদপ্তর সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগকে। এই ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়,  তার জন্য এদিন সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সচেতন ও তৎপর থাকার বার্তা দেওয়া হয়।  দীঘা-শংকরপুর উন্নয়ন সংস্থার সভাকক্ষে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী রাজেশ মাহাতো। ছিলেন মৎস্য দপ্তরের চিফ সেক্রেটারি শুভঞ্জন দাস, জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুচ্ছাইত সহ ছিলেন কোস্টগার্ডের আধিকারিকরা, বিভিন্ন এলাকার বিধায়করা। এছাড়া মৎস্যজীবী সংগঠনের কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের আধিকারিক, জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় সমুদ্রগামী মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তায় মৎস্যদপ্তর,  মৎস্যজীবী সংগঠন ও মৎস্যজীবীদের করণীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এছাড়া কোস্টগার্ডের ভূমিকার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। গভীর সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের জন্য যোগাযোগের মাধ্যম হল ট্রান্সপন্ডার।  এটি ‘ইসরোর’ তৈরি একটি অত্যাধুনিক রেডিও ডিভাইস, যা সমুদ্রের গভীরে মাছ ধরা ট্রলার-লঞ্চ-বোটের নিরাপত্তা, অবস্থান পর্যবেক্ষণ এবং দ্বিমুখী যোগাযোগের প্রধান ভূমিকা পালন করে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে কিংবা ট্রলার বিকল হলে এর সাহায্যে মৎস্যজীবীরা একটি বিশেষ বোতাম টিপে উদ্ধারকারী দলের কাছে সরাসরি বিপদসঙ্কেত পাঠাতে পারেন। কিন্তু সমস্যা হল,  অনেক সময় গভীর সমুদ্রে যাওয়ার পর মৎস্যজীবীরা ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ। দুর্ঘটনাগ্রস্ত ‘জয় মা কালী’ ট্রলারেও ট্রান্সপন্ডার বন্ধ ছিল বলে জানা গিয়েছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ ট্রলার­-লঞ্চে এই ট্রান্সপন্ডার মেসিন বসেছে। রাজ্যের মৎস্যমন্ত্রী বলেন, বিপদ এড়াতে সমুদ্রগামী মৎস্যজীবীদের সবাইকে সচেতন ও সতর্ক হতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সমুদ্র উত্তাল হলে আবহাওয়া দপ্তর এবং মৎস্যদপ্তর যে নির্দেশ দেয়, তা অবশ্যই মেনে চলতে হবে।  ট্রান্সপন্ডার ব্যবহারে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ