নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘ঘোষণা সহজ। বাস্তবায়ন কঠিন।’ রবিবার এমনই মন্তব্য শোনা গেল কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহানের গলায়। ‘বিকশিত ভারত-গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন-গ্রামীণ’ (ভিবি-জিরামজি) হোক বা গ্রামীণ আজীবিকায় ‘লাখপতি দিদি’—কঠিন বাস্তবের কথা শোনা গেল শিবরাজের গলায়।
এদিন পুসা ইনস্টিটিউটে বসেছিল রাষ্ট্রীয় গ্রামীণ বিকাশ সম্মেলন। সব রাজ্যকে নিয়েই দুদিন ব্যাপী সম্মেলন। রবিবার সম্মেলনের উদ্বোধন করে শিবরাজ বলেন, আমরা চাই সংস্কার। কোনো প্রকল্প ঘোষণা করে ফাইলে আটকে রাখা লক্ষ্য নয়। বাস্তবায়নই টার্গেট। তবে এই কাজ কঠিন। তাই মানরেগা (১০০ দিনের কাজ) বন্ধ করে কী করে মসৃণভাবে আগামী ১ জুলাই থেকে ভিবি-জিরামজি শুরু করা যায়, সেটা নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য উভয়কেই ভাবতে হবে। এক প্রকল্প থেকে অন্য প্রকল্পে যাওয়ায় কাজ পেতে চাওয়া শ্রমিকদের যাতে কোনো সমস্যায় পড়তে না হয়, নিশ্চিত করতে হবে। তাই রাজ্যের মন্ত্রীদের কাছে পরামর্শ চাইব।
শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানো যায় কি না, তা নিয়েও ভাবনাচিন্তা করতে হবে জানিয়ে শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, ভিবি-জিরামজি’র জন্য কেন্দ্র-রাজ্য মিলিয়ে এ বছর ১ লক্ষ ৫১ হাজার ২৮২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। পাঁচ বছরে সাড়ে সাত লক্ষ কোটি টাকা লাগবে। কোথায় কী কাজ হবে, তা ঠিক করবে গ্রামসভা। কিন্তু কাজ ঠিক করে করতে হবে। দায়সারা দায়িত্ব নিলে চলবে না। শিবরাজ বলেন, গ্রামের মহিলাদের বছরে এক লক্ষ টাকা উপার্জন নিশ্চিত করতে আজীবিকা মিশনের মাধ্যমে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ৩ কোটি ৭ লক্ষ দিদি লাখপতি হয়েছেন। তবে টার্গেট ৬ কোটি। কিন্তু অনেকেরই আয় বছরে ৬০-৭০ হাজার টাকার বেশি হচ্ছে না। তাই টার্গেট পূরণ করার কাজ কিছুটা কঠিন। তবে করতেই হবে। কেননা, নরেন্দ্র মোদির লক্ষ্য ২০৪৭ সালের মধ্যে দেশ বদলানো।
আজ সোমবার পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্যান্য রাজ্যের গ্রামোন্নয়নমন্ত্রীর সঙ্গে হবে আলোচনা। তাঁদের কাছে চাওয়া হবে পরামর্শ। জানালেন শিবরাজ। উল্লেখ্যযোগ্য বিষয় হল, এদিন সম্মেলনের শুরুতে জাতীয় সঙ্গীত ‘জনগণ মন অধিনায়ক’ বাজল বটে, কিন্তু জাতীয় গীত ‘বন্দেমাতরমে’র এক কলিও বাজানো হল না। অথচ মোদি সরকারই আবশ্যিক করেছে যেকোনো সরকারি অনুষ্ঠানে দুই-ই বাজাতে বা গাইতে হবে ।