সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: শুক্রবার সকালে সোনামুখীর বন্যাকবলিত এলাকায় নিজেই নৌকা চালিয়ে পরিদর্শন করেন বনপ্রতিমন্ত্রী দিবাকর ঘরামি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাঁকুড়ার জেলাশাসক অনীশ দাশগুপ্ত সোনামুখীর নিত্যানন্দপুর ও সমিতি মানায় বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। শুক্রবার ডিভিসির জল ছাড়ার পরিমাণ কমানোয় পরিস্থিতির অনেকটাই উন্নতি হয়েছে। বাসিন্দাদের আতঙ্কও কিছুটা কেটেছে। মন্ত্রী এদিন সকালে রাধামোহনপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর নিত্যানন্দপুর গ্রামে জলমগ্ন এলাকায় নিজেই নৌকা চালিয়ে পরিদর্শন করেন। বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেন।
মন্ত্রী বলেন, আমি ছোটোবেলা থেকেই দামোদরের বন্যা কবলিত এলাকায় মানুষ হয়েছি। এলাকার মানুষের খোঁজ খবর নিতে এদিন সকালে নৌকা নিয়ে বেরিয়েছিলাম। বেশকিছু মানুষের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের সুবিধা অসুবিধার বিষয়ে খোঁজ নিয়েছি। ডিভিসির জল ছাড়ার পরিমাণ কমানোয় বিপদ বাড়েনি। তবুও দামোদরের তীরবর্তী নীচু এলাকায় প্রচুর জল জমে রয়েছে। চাষের জমি ডুবে রয়েছে। এলাকাটি কৃষিপ্রধান। চাষিদের প্রচুর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। জেলাশাসককে পূর্ণাঙ্গ তথ্য রাজ্যে পাঠাতে বলা হয়েছে। চাষিরা যাতে ফসলের ক্ষতিপূরণ পান, সে ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলাশাসক বলেন, সোনামুখীতে নীচু জায়গায় জল জমলেও বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ কমায় শুক্রবার ডিভিসি দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে সোনামুখীর দামোদর তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের স্বস্তি ফিরেছে। বৃহস্পতিবার সকালে উত্তর নিত্যানন্দপুর এলাকায় বেশকিছু বাড়ির বাসিন্দারা জলবন্দি হয়ে পড়েন। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে বিস্তীর্ণ চাষের জমি জলের তলায় চলে যায়। বহু বাড়ির উঠানে জল জমে যায়। সেই খবর পেয়ে প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা ওইদিন এলাকায় যান। বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের আধিকারিকরাও সকাল থেকেই এলাকায় কার্যত পড়ে থাকেন। পরিস্থিতির উপর নজর রাখেন। বিভিন্ন স্কুলে ত্রাণশিবিরও খোলা হয়। ওইদিন বেলার দিকে ডিভিসি দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ১লক্ষ ৪২হাজার কিউসেক জল ছাড়ায় বাসিন্দাদের মনে আতঙ্ক বাড়ে। দেড় লক্ষের বেশি জল ছাড়লে বাঁধ ভেঙে এলাকায় জল ঢোকার আশঙ্কা থাকে। প্রশাসনের তরফেও এব্যাপারে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ওইদিন সন্ধ্যায় স্বয়ং জেলাশাসক এলাকায় হাজির হন। এলাকার বিধায়ক তথা বনপ্রতিমন্ত্রী দিবাকর ঘরামিও সারাদিন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। যদিও রাতের দিকে ডিভিসি জল ছাড়ার পরিমাণ কমানোয় দামোদরে জলস্তর বিপদ সীমার মধ্যেই আটকে থাকে। এদিকে বৃষ্টির পরিমাণও কমে যাওয়ায় শুক্রবার সকালে পরিস্থিতির উন্নতি হয়। -নিজস্ব চিত্র