নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: এ যেন উলট পুরাণ! রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হতেই পুজোর উদ্বোধনে পাল্লাভারী শাসকদল বিজেপির মন্ত্রী ও সাংসদদের। এই তালিকায় এগিয়ে অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন। তিনি শতাধিক পুজো উদ্বোধনের আমন্ত্রণ পেয়েছেন। সেই সঙ্গে গা ভাসিয়েছেন এমপি রাজু বিস্তা, জয়ন্ত রায় ও বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়। সেই তুলনায় অনেকটাই পিছিয়ে প্রাক্তন দুই মন্ত্রী গৌতম দেব ও অশোক ভট্টাচার্য। তাঁরা হাতেগোনা কিছু পুজো উদ্বোধনের অনুষ্ঠানে শামিল হবেন। গল্পের বই পড়ে, লেখালেখি করে, দলের বুকস্টলে, সহায়তা কেন্দ্রে বসে সময় কাটাবেন। নিজের বাড়ির পুজোয় সময় দেবেন গৌতমবাবু।
গত দেড় দশক শিলিগুড়িতে পুজো উদ্বোধনে কদর ছিল তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের। তাঁদের টেক্কা দিতে পারতেন না বিজেপির বিধায়ক ও সাংসদরা। রাজ্যে পালাবদল হতেই সেই চেনা ছবি উধাও। এবার পুজো উদ্বোধনে ছুটে বেড়াচ্ছেন শাসকদল বিজেপির মন্ত্রী, বিধায়ক ও সাংসদরা। এঁদের মধ্যে আনন্দময় অনেকটাই এগিয়ে। তিনি রথযাত্রা থেকে বিভেন্ন পুজো কমিটির খুঁটি পুজোতে শামিল হয়েছিলেন। এবার দ্বিতীয়া থেকেই মেতেছেন পুজো মণ্ডপ উদ্বোধনে।
অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রীর অফিস সূত্রে খবর, শিলিগুড়ি ও শহর গ্রামীণ এলাকা থেকে শতাধিক পুজো উদ্বোধনের আমন্ত্রণ এসেছে। এরবাইরে জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, রায়গঞ্জ থেকেও কিছু পুজো উদ্বোধনের আমন্ত্রণ এসেছে। অর্থ ও পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে প্রচুর পুজোর উদ্বোধন করেছি। ষষ্ঠী পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলবে। যেসব পুজো কমিটি আমন্ত্রণ জানিয়েছে, সকলের কাছেই যাব। সপ্তমী থেকে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাব। বই পড়ব, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রতিমা দর্শন করব, দলের কার্যকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করব।
বুধবার চতুর্থীতে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত শিলিগুড়িতে ১০টি পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিলেন সাংসদ রাজু বিস্তা। জলপাইগুড়ির সাংসদ ডাঃ জয়ন্ত রায় ও ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বিধায়ক শিখা চট্টোপাধ্যায়ও পুজোর উদ্বোধনে শামিল হন। জয়ন্তবাবু কিছু জায়গায় গানও করেন। বিজেপির শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা কমিটির সভাপতি অরুণ মণ্ডলও কয়েকটি ক্লাবের পুজো উদ্বোধনে শামিল হন। তবে, ব্যতিক্রমী পর্যটনমন্ত্রী শংকর ঘোষ। তিনি নিজেকে পুজো উদ্বোধন থেকে গুটিয়ে রেখেছেন।
এদিকে, বিগত বছরগুলির তুলনায় এবার পুজো উদ্বোধনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়পন্থী তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী ও মেয়র গৌতমের কদর কিছুটা কমেছে। গৌতমবাবু বলেন, ইতিমধ্যে পুজোর উদ্বোধনে শামিল হয়েছি। এবার ২৫-৩০টি পুজো মণ্ডপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যাব। এছাড়া, পুজোর ক’দিন বই পড়ে এবং নিজের বাড়ির পুজোয় সময় কাটাব। দলের সহায়তা কেন্দ্রেও যাব। আরএক প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা অশোক ভট্টাচার্য বলেন, কয়েকটি পুজো কমিটি আমন্ত্রণ করেছে। সেগুলিতে যাব। আর পুজোর ক’দিন বিভিন্ন পত্রপত্রিকার পুজোর সংখ্যা পড়ে, লেখালেখি করে এবং দলীয় বুকস্টলে বসে সময় কাটাব।



