Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

‘মেয়েদের নিয়ে সিনেমা চলবে না, এই ধারণা বদলাচ্ছে’

‘মেয়েদের নিয়ে সিনেমা চলবে না, এই ধারণা বদলাচ্ছে’
  • ১৭ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

চিত্রনাট্য পড়ে কী ভেবেছিলেন?
পরিচালক নির্ঝর মিত্র আমাকে কিছু পরিসংখ্যান দেখিয়েছিলেন। এখনও এত মানুষকে ডাইনি সন্দেহে খুন করা হয়! মনে হয়েছিল, কাজটা আমার করা উচিত।
যে প্রান্তিক মানুষদের জন্য কাজটা করলেন, তাঁদের কাছে সিরিজটা আদৌ পৌঁছবে? 
গল্পটা হয়তো সত্যি ঘটনা অবলম্বনে নয়, কিন্তু গল্পটা সমাজেরই কোনও একটা জায়গা থেকে নেওয়া হয়েছে। শুধু প্রান্তিকদের জন্য কাজটা করিনি। এতে একটা বার্তা আছে, থ্রিলার এলিমেন্ট আছে, কিছু সিনেম্যাটিক লাইসেন্সও আছে। কিছু কুপ্রথার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা হয়েছে। এখন মোবাইলের দৌলতে সবাই কোনও না কোনও কনটেন্ট দেখছেন। এটা ঠিক ‘ডাইনি’র মাধ্যমে যে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের আমরা টার্গেট করছি, সেখানে কতটা ইন্টারনেট পৌঁছেছে সেই বিষয়ে আমার সন্দেহ আছে। 
শহুরে শিক্ষিত সমাজেও কি অপছন্দের মহিলাকে ডাইনি বলে দাগিয়ে দেওয়া হয় না? 
আমরা এই গল্পে ডাইনি প্রথা নিয়ে কথা বলেছি। সেটা প্রতীকিও বটে। নারীকে দোষী সাব্যস্ত করে তার উপর সমস্ত দায় চাপিয়ে দেওয়ার রেওয়াজ তো আবহমানকালের। সতীদাহ প্রথা, বাল্য বৈধব্য, মাথা ন্যাড়া করে, নিরামিষ খাইয়ে মেয়েদের সারা জীবন রেখে দেওয়া হয়েছে। যখনই কোনও নারী প্রশ্ন করতে শুরু করেছে, তখনই সমাজের কিছু অংশ তাদের নির্মমভাবে দাগিয়ে দিয়েছে। আজও মেয়েদের পোশাক নিয়ে কথা হয়। এটা প্রতিটি মেয়ের লড়াই, যেটা জন্ম থেকে শুরু হয়েছে। মৃত্যুতে যার পরিসমাপ্তি। 
অনেকক্ষেত্রে মহিলারাও তো মহিলাদের দুরবস্থার কারণ হয়ে ওঠেন?
নিশ্চয়ই। আমরা দেখে শিখি, পড়ে শিখি আর ঠেকে শিখি। গ্রামে মানুষ যা দেখে আসছে সেটাই রীতি, সেটাই সত্যি বলে শিখেছে। আমি চা বাগানের জীবন খুব কাছ থেকে দেখেছি। বাগানের কাজের বাইরে তাদের আলাদা কোনও জগৎই নেই। হয়তো কাজের মেয়ে এসে গল্প করে বলছে, চা বাগানে কালকে রাতে ডাইনি বেরিয়েছিল। বাচ্চা নিয়ে চলে গিয়েছে। চা বাগানে চিতাও তো বেরয়। আসল কারণ না জেনেই একটা মেয়েকে দোষারোপ শুরু হয়ে যায়। 
অ্যাকশন মানেই হিরো, পর্দায় কি এই ধারণাটা বদলাচ্ছে?
(হেসে) ইস... আমার ইমেজটা কোথায় যাচ্ছে! মেয়েরা তো রিয়েল লাইফে সবসময় হিরো। সেজন্য তো নারী শক্তিকে আমাদের ধর্মে এত প্রাধান্য দেওয়া হয়। আগে তো একটা ট্যাবু ছিল, মেয়েদের নিয়ে সিনেমা চলবে না। ধারণাটা ক্রমশ বদলাচ্ছে। এটা একটা উপরি পাওনা। 
আজকের মেয়েদের কী বার্তা দেবেন?
নিজেকে এমনভাবে গড়ে তোল, তোমাকে যেন কারও উপর নির্ভর করতে না হয়। এই শহরে আমি একা এসেছিলাম। দৃঢ় বিশ্বাস ছিল, আমি কোথায় যেতে চাই। সেই বিশ্বাসটা যেন না হারায়। 
যেখানে চেয়েছিলেন, সেখানে পৌঁছতে পেরেছেন? 
আমি বিশ্বাস করি, জীবনে যা পেয়েছি, তাতে আমি কৃতজ্ঞ। আমার অনেক স্বপ্ন জীবনে। এখনও শ্যুটিংয়ে গিয়ে মনে হয় আজ আমার প্রথম দিন। আমি এভাবেই জীবনকে দেখি।

Advertisement


প্রিয়ব্রত দত্ত

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ