Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট তাদের দিকেই! দাবি তৃণমূল ও বিজেপির

সুন্দরবন ও সংলগ্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিক প্রতিবছর ভিনরাজ্যে কাজে যান

পরিযায়ী শ্রমিকদের ভোট তাদের দিকেই! দাবি তৃণমূল ও বিজেপির
  • ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সুন্দরবন ও সংলগ্ন এলাকা থেকে বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিক প্রতিবছর ভিনরাজ্যে কাজে যান। পেটের তাগিদে বছরের একটা বড় সময় তাঁদের ঘরবাড়ি ছেড়ে দূরে গিয়ে থাকতে হয়। বিভিন্ন দক্ষিণী রাজ্যগুলিতে বঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিড় বেশি হয় বলে জানা গিয়েছে। ধান কাটা থেকে শুরু করে ঠিকশ্রমিকের কাজ করেন তাঁরা। ভোট এলেই শুরু হয় এই শ্রমিকদের নিয়ে রাজনীতি। কেন তাঁদের ভিন রাজ্যে যেতে হবে, এই প্রশ্ন তোলে বিরোধীরা। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলে জবাব দেয় শাসকদল। আরও একটি বিধানসভার নির্বাচন আসন্ন। তার আগে ফের পরিযায়ী শ্রমিকদের নিয়ে তরজা আরম্ভ হয়েছে।

Advertisement

এবার এই শ্রমিকরা কার দিকে ঝুঁকে রয়েছেন, এই নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। শাসক ও বিরোধী দল, উভয়ই দাবি করছে যে, এবার ভোটে এই শ্রমিকদের একটি বড় অংশই তাঁদের সমর্থন করবে। ক্যানিং, গোসাবা, কুলতলি, বাসন্তীর মতো জায়গা থেকে একটা বড় সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিক কাজের খোঁজে বাইরে যান। তাঁদের কয়েকজন বলেন, সারা বছর ধরে আমাদের আসা-যাওয়া নিয়ে যত না আলোচনা হয়, তার থেকে বেশি আলোচনায় হয় ভোটের সময়। তবে কাজের তাগিদেই বাইরে যেতে হয়। নাহলে খাব কী!
১০০ দিনের কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে আরও বেশি সমস্যা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কেউ কেউ। পরিসংখ্যান বলছে, এই জেলায় কয়েক লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক আছেন। এবারের ভোটে সবাই ভোট দিতে আসবেন কি না, সেটা এখনও নিশ্চিত নয়। তবুও তাঁদের সমর্থন চাইতে কোনো কিছু বাদ রাখছেন না রাজনৈতিক নেতারা। তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রের বিমাতৃসুলভ আচরণের কারণে রাজ্যে এখন ১০০ দিনের কাজ বন্ধ। তাই অনেকেই বাধ্য হয়ে বাইরে যাচ্ছেন। তবে এখানে সরকারও নানা উদ্যোগ নিচ্ছে। আপদে-বিপদে ওই পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে তৃণমূল নেতা-কর্মীরা আছেন। কিন্তু বিজেপিকে তো দেখাই যায় না। তাই এসবের উত্তর পরিযায়ী শ্রমিকরা দেবেন ভোট বাক্সে। গোসাবার তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মণ্ডল এই বিষয়ে বলেন, কলকাতাতেও তো অনেক ভিন রাজ্যের মানুষ কাজে আসেন। তাঁরা কি পরিযায়ী! আসলে যাঁর যেখানে কাজের সুবিধা হবে, তিনি সেখানে যেতেই পারেন। এখানকার অনেক যুবক বাইরে যান। কিন্তু তাঁদেরও পরিবারের দেখভাল, ন্যূনতম খরচ চালাতে সাহায্য করছেন আমাদের মুখ্যমন্ত্রী। নানা প্রকল্পের সুবিধা তাঁরাও পাচ্ছেন। ফলে আগামী দিনে পরিযায়ী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা দিদিকেই সমর্থন করবেন।
পাল্টা তৃণমূলকে আক্রমণ করেছে বিজেপিও। যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি অবনীকুমার মণ্ডল বলেন, কল-কারখানা নেই বলেই ওঁদের বাইরে যেতে হয়। পরিযায়ী শ্রমিক থাকবেন কেন! বরং বাইরে থেকে লোকজন এখানে কাজে আসবে। তাই এবার এইসব পরিযায়ী শ্রমিকরা কর্মসংস্থানের দাবিতেই বিজেপিকে সমর্থন করবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ