Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভিন রাজ্যে আর নয়, শ্রমশ্রীতেই আস্থা কান্দির পরিযায়ী শ্রমিকদের

বাইরে মার খাব কেন, বাংলাতেই ফিরে কাজ করব। রাজ্য সরকারের শ্রমশ্রী প্রকল্পে আস্থা রেখে কান্দি মহকুমার অধিকাংশ পরিযায়ী শ্রমিকের এমনই বক্তব্য।

ভিন রাজ্যে আর নয়, শ্রমশ্রীতেই আস্থা কান্দির পরিযায়ী শ্রমিকদের
  • ২১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কান্দি: বাইরে মার খাব কেন, বাংলাতেই ফিরে কাজ করব। রাজ্য সরকারের শ্রমশ্রী প্রকল্পে আস্থা রেখে কান্দি মহকুমার অধিকাংশ পরিযায়ী শ্রমিকের এমনই বক্তব্য। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শ্রমশ্রীতে ভরসা রাখছেন তাঁরা। এই প্রকল্পে পরিযায়ী শ্রমিকদের মাসে পাঁচ হাজার টাকা করে কাজ না পাওয়া দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করায় খুশি শ্রমিক ও তাঁদের পরিবার। প্রসঙ্গত, বহুবছর ধরেই কান্দি মহকুমার পাঁচটি ব্লক এলাকা থেকে পরিযায়ী শ্রমিকরা কাজের খোঁজে দল বেঁধে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিচ্ছেন। দিল্লি, মুম্বই, বেঙ্গালুরু থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই এলাকার কয়েক হাজার পরিযায়ী শ্রমিক কাজ করছেন।

Advertisement

এসিব শ্রমিকরা নির্মাণকার্য, কাঁথাস্ট্রিচ, মুরগির দোকান সহ বিভিন্ন কাজ করেন। কিন্তু, বর্তমানে ভিনরাজ্যে গিয়ে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন তাঁরা। কেড়ে নেওয়া হচ্ছে প্রয়োজনীয় নথি। পুলিসের কাছে ধরিয়ে দেবে বলে হুমকিও মিলছে। ফলে শ্রমিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁদের পরিবারের লোকজন। আর এই অবস্থা থেকে অব্যহতি চাইছেন শ্রমিক পরিবারগুলিও। 
খড়গ্রাম ব্লকের রামচন্দ্রপুরের বাসিন্দা সাবিরুল শেখ বলেন, ছেলে কয়েকবছর ধরে মুম্বইয়ে রয়েছে। এতবছর কিছু না হলেও এখন ওদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে। বাংলায় কথা বললেই মারধর করা হচ্ছে। কাগজপত্র কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। তাই আমরা চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছি। ছেলেকে বাড়ি ফিরে আসতে বলেছি। একই অবস্থা মহকুমার অধিকাংশ পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের। তবে রাজ্য সরকারের শ্রমশ্রী প্রকল্প তাঁদের জন্য নতুন দিশা দেখাচ্ছে। 
ভরতপুরের রজব আলি উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ে মুরগির দোকানে কাজ করেন গত আট বছর ধরে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন এখানে আছি বলে তেমন সমস্যা হচ্ছে না। কিন্তু, সদ্য যাঁরা এখানে এসেছেন তাঁদের খুব সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বাংলায় কথা বললেই হেনস্তা ও মারধর করা হচ্ছে। সেখানকার অপর পরিযায়ী শ্রমিক আশাদুল শেখ বলেন, দিদির শ্রমশ্রী প্রকল্পের কথা আমরা জানতে পেরেছি। তাই আর বাইরের রাজ্যে কাজ করতে এসে মার খেতে চাই না। এর থেকে ভালো দিদির ভাতা নিয়ে গ্রামে ফিরে গিয়ে কাজ করব। 
কান্দির সহিসপাড়ার বাসিন্দা আলিম শেখ বলেন, কয়েকবছর ধরে ঝাড়খণ্ডে নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। মাসখানেক আগে আমাদের ওখান থেকে মেরে তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। আমাদের বাংলাদেশি বলে পুলিসের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিল ওরা। তাই বাইরে আর নয়। এবার দিদির প্রকল্পের ভাতা নিয়ে এখানেই কাজ করতে চাই। কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার বলেন, হিসেব করলে দেখা যাবে অন্যান্য রাজ্যের তুলনাই বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকের সংখ্যা কম। আমাদের নেত্রীও চাইছেন বাংলার শ্রমিক বাংলাতেই কাজ করুক। দিদির শ্রমশ্রী প্রকল্পের আওতায় প্রত্যেক পরিযায়ী শ্রমিককে আনার চেষ্টা চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ