


সংবাদদাতা, ঝালদা: ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে ফের পুরুলিয়ার এক পরিযায়ী শ্রমিক প্রাণ হারালেন। কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে অনাদি মাহাত’র(২৯) রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাঁর বাড়ি ঝালদা-২ ব্লকের খৈরি গ্রামের যুবক। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে জেলায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। খৈরি গ্রামের বাসিন্দা অনাদি গত প্রায় আট বছর ধরে বেঙ্গালুরুর সার্জাপুর সিটি এলাকায় কর্মরত ছিলেন। সেখানে একটি বেসরকারি সংস্থায় শ্রমিকের কাজের পাশাপাশি মেসের রান্নার দায়িত্বও সামলাতেন। গত কার্তিক মাসে বাড়ি থেকে তিনি কাজে গিয়েছিলেন। পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন অনাদি। বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা-মা ছাড়াও রয়েছেন স্ত্রী প্রীতিলতা এবং দুই সন্তান সাত বছরের রুবি ও তিন বছরের ভুবন। অনাদির স্ত্রী প্রীতিলতা কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, ঘটনার আগের রাতেও রাত ১১টা পর্যন্ত স্বামীর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে ফোনে কথা হয়েছে। ভিডিয়ো কলে স্বামী সন্তানদের খাইয়েছেন। প্রতিদিন ভোরে স্বামী তাঁকে ফোন করতেন। মঙ্গলবার ভোরে ফোন না আসায় তিনি নিজেই ফোন করেন। তখনই ওপার থেকে অন্যএক ব্যক্তি জানান, স্বামী মারা গিয়েছেন। প্রীতিলতার দাবি, স্বামী একদম সুস্থ ছিলেন। কথা বলার সময় খুব হাসিখুশি ছিলেন। তাঁকে মেরে ফেলা হয়েছে। তাঁর রোজগারেই আমাদের সংসার চলছে। এখন আমাদের কী হবে? মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মৃত শ্রমিকের বাড়িতে যান পুরুলিয়া জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান শান্তিরাম মাহাত ও অন্যান্য কর্মীরা। তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়ে বলেন, তৃণমূল কংগ্রেস বরাবরই পরিযায়ী শ্রমিকদের পাশে থাকে। অনাদির পরিবারের কর্মসংস্থানের দাবিটি আমরা গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখব এবং সাধ্যমতো চেষ্টা করব। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারকে বিঁধেছেন বিজেপি সাংসদ জ্যোতির্ময় সিং মাহাত। তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে কর্মসংস্থান নেই বলেই লক্ষ লক্ষ যুবককে বাইরে যেতে হচ্ছে। কেন অনাদি পরিযায়ী শ্রমিক হল, সেটাই বড় প্রশ্ন। তিনি দাবি করেন, রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন না এলে এই পরিস্থিতির বদল হবে না। কুড়মি সম্প্রদায়ের যুব নেতা ফাল্গুনী মাহাতও এই ঘটনার সঠিক তদন্ত এবং অনাদির উচ্চমাধ্যমিক পাশ স্ত্রীর কর্মসংস্থানের দাবি তুলেছেন। জেলা কংগ্রেস সভাপতি নেপাল মাহাত পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।