Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিজ রাজ্যের প্রতি ক্ষোভ উগরে বাংলার ব্যবস্থাপনায় খুশি ‘পরিযায়ী’ পরীক্ষার্থীরা

নিজ রাজ্যের প্রতি ক্ষোভ উগরে বাংলার ব্যবস্থাপনায় খুশি ‘পরিযায়ী’ পরীক্ষার্থীরা
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: উত্তরপ্রদেশ থেকে মেয়েকে কোলে নিয়ে স্বামীর সঙ্গে কলকাতায় এসএসসি পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন সঞ্জনা বিশ্বকর্মা। মণীন্দ্রচন্দ্র কলেজের সামনে মেট্রোর ছাউনিতে বসে মেয়েকে সামলানোর মাঝেই চোখ বুলিয়ে নিচ্ছিলেন বই-খাতায়। তিনি একা নন। তাঁদের সঙ্গেই শ্যামবাজারের এই পরীক্ষাকেন্দ্রে এসেছেন উত্তরপ্রদেশের বহু পরীক্ষার্থী। রয়েছেন বিহার, ঝাড়খণ্ড, রাজস্থান, দিল্লির চাকরিপ্রার্থীরাও। একটি কেন্দ্রেই যেন ভারতদর্শন! কয়েকশো মিটার দূরে পার্ক ইনস্টিটিউশনেও একই ছবি। পরীক্ষা শেষে এখানকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে যারপরনাই খুশি তাঁরা। স্বস্তির ছাপ ছিল তাঁদের চোখেমুখে। সেই সঙ্গে তাঁরা যে বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির কর্মসংস্থান, নিয়োগের হাল নিয়ে বেজায় খাপ্পা, তাও স্বীকার করছেন খোলাখুলি। 

Advertisement

পরীক্ষাকেন্দ্রে ঢোকার লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা উত্তরপ্রদেশের এক তরুণ বলেন, ‘যোগীজি রাজ্যে কোনও রোজগারের ব্যবস্থা রাখেননি। সবই কেবল প্রচার। উত্তরপ্রদেশে একটা বুলডোজার সরকার চলে।’ আরেক তরুণী বলেন, ‘বলা হচ্ছে শুনছি, আগে যাঁরা চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের বাড়তি নম্বর দিচ্ছে সরকার। এটা নাকি বাড়তি অন্যায্য সুবিধা। তাহলে বিহার-উত্তরপ্রদেশে কী হয় শুনুন। পরীক্ষার দিন ঘোষণা হয়। পরীক্ষার দিন কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তালা ঝুলছে। আগাম কোনও ঘোষণাও থাকে না। আরও আশ্চর্যের বিষয়, ওই না হওয়ার পরীক্ষার ভিত্তিতে মেধা তালিকা প্রকাশিত হয়ে যায়!’ বিভিন্ন রাজ্যে ঘুরে ঘুরে পরীক্ষা দিতে গিয়ে এমনই অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর।
কলকাতার মেয়ে হলেও দিল্লিতে শ্বশুরবাড়ি মাহেশ্বরী শুক্লার। হিন্দি বিষয়ে শিক্ষকতার জন্য পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন তিনি। মনীন্দ্রচন্দ্র কলেজের ব্যবস্থাপনায় রীতিমতো আপ্লুত। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী যে যে নির্দেশ দেওয়ার কথা, তা পরিদর্শকরা দিয়েছেন। এছাড়াও পদ্ধতিগত বিষয়ে পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছি। পরীক্ষা বেশ ভালো হয়েছে। এবার ভাগ্যের ব্যাপার।’ এ রাজ্যের পরীক্ষার্থীদের তুলনায় অন্যান্য রাজ্যের পরীক্ষার্থীরা যে অনেক বেশি অভিজ্ঞ এবং চৌখস, তাও এদিন স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট মহলের। এসএসসি যেসব বস্তু বা সামগ্রী নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছিল, ভিন রাজ্যের প্রায় কেউই তা আনেননি। সেটা স্বচ্ছ জলের বোতল বা পেন হোক বা হাতঘড়ি। বরং অনেক বাঙালি অভিভাবককেই দেখা গিয়েছে, তাঁরা সন্তানকে হাতঘড়ি পরে ঢুকতে দেওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করছেন। 
তবে ভিন রাজ্যের পরীক্ষার্থীদের এ রাজ্যের পরীক্ষা ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ে সার্বিক ইতিবাচক ধারণায় চোনা ফেলেছে হুগলির একটি ঘটনা। উত্তরপ্রদেশ থেকে হাওড়া স্টেশন হয়ে হুগলি আসার পথে তিনি কেপমারির শিকার হন। ট্রেনে আলাপ হওয়া এক ব্যক্তিই আনন্দকুমার নামে ওই পরীক্ষার্থীর হোটেলের ব্যবস্থা করে দেয় চুঁচুড়ায়। তারপর কিছু খাইয়ে তাঁকে সংজ্ঞাহীন করে মোবাইল, টাকাপয়সা নিয়ে চম্পট দেয়। হোটেল কর্তৃপক্ষই তাঁকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করে। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনার তদন্তে নেমেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ