নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মেদিনীপুর পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার তথা শহর তৃণমূলের প্রাক্তন সভাপতি বিশ্বনাথ পাণ্ডব-কে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। তাঁর ছেলে প্রসেনজিৎ পাণ্ডব এবং ভাইপো রঞ্জিত পাণ্ডবকেও মেদিনীপুর কোতোয়ালি থানার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পাণ্ডব পরিবারের আরও দুই সদস্যের নাম অভিযোগপত্রে রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। রবিবার ধৃতদের মেদিনীপুর আদালতে তোলা হয়। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের নিজেদের হেপাজতে নেওয়ার আবেদন জানায় পুলিশ। এই গ্রেপ্তারিকে ঘিরে ইতিমধ্যেই মেদিনীপুর শহরজুড়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, এরপর কোন কাউন্সিলার? কারণ, শহরের একাধিক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে তোলাবাজি, প্রভাব খাটানো, সরকারি প্রকল্পে অনিয়ম এবং বিরোধীদের উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠেছে। ফলে পাণ্ডব পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তারের পর অনেক কাউন্সিলার উদ্বেগে রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই বিশ্বনাথ পাণ্ডবের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠছিল। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে তোলাবাজি, পুরসভায় চাকরি পাইয়ে দেওয়া, বিজেপির নেতাদের উপর হামলা, পুরসভায় ভাঙচুর এবং সরকারি প্রকল্পের অর্থ তছরুপের মতো গুরুতর অভিযোগ। যদিও এই সমস্ত অভিযোগের অনেকগুলিই তদন্ত সাপেক্ষ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিক একটি মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই গ্রেপ্তারি। অভিযোগকারী কোতোয়ালি থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, তাঁর কাকা বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেই সময় বিশ্বনাথ পাণ্ডব, প্রসেনজিৎ পাণ্ডব, রঞ্জিত পাণ্ডব-সহ কয়েকজন দলবদ্ধভাবে সেখানে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করেন। বিজেপিকে ভোট দেওয়ার অভিযোগ তুলে তাঁদের উপর চড়াও হয় অভিযুক্তরা। বেধড়ক মারধর করা হয়। ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি অন্য অভিযুক্তরাও লাঠি, লোহার রড সহ বিভিন্ন অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এমনকি, আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আক্রান্তকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভরতি করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে কাউন্সিলর-কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনিয়ে মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, অভিযোগ সত্য না মিথ্যা, তা তদন্তে স্পষ্ট হবে। আইন আইনের পথেই চলবে। জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, পাপের শাস্তি তো পেতেই হবে। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের উপর অত্যাচারের অভিযোগ উঠছিল। পুলিশ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করছে বলেই এই পদক্ষেপ হয়েছে।এক কাউন্সিলর বলেন, একাধিক জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। তদন্ত এগোলে আরও অনেককে জেলের ভাত খেতে হবে। ফলে তাঁরা উদ্বিগ্ন রয়েছেন।এদিন কোর্টে যাওয়ার সময় বিশ্বনাথ বলেন, কপাল খারাপ। আমাকে মারধরের অভিযোগ করেছিলাম। আর আমাকেই গ্রেপ্তার করা হল। ধৃত বিশ্বনাথ পাণ্ডব।-নিজস্ব চিত্র