


নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রাত বাড়লেই বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বাড়ছে। বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে রেফার হয়ে আসা রোগীদের দীর্ঘক্ষণ ইমার্জেন্সির সামনে আটকে রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ। সেই সময়ই পরিবারের লোকজনের কাছে ‘শুভাকাঙ্খী’ হয়ে ‘দালাল’রা হাজির হচ্ছে। মগজধোলাই করে তারা রোগীদের নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়ে ফায়দা তুলছে। শুক্রবার পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায়ের কাছে সন্দীপ দাস নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন। খণ্ডঘোষের মুইধাড়া গ্রামের ওই ব্যক্তি লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, তাঁর ভাই সুদীপ দাস দুর্ঘটনায় গুরুতর জখম হন। তাঁকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসা না করেই ফেলে রাখা হয়। চিকিৎসকদের বারবার অনুরোধ করার পরও লাভ হয়নি। এই অবস্থায় রোগীকে হাসপাতাল থেকে বের করে নার্সিংহোমে নিয়ে যেতে বাধ্য হই।
পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বলেন, রাতের দিকে দালালরা ইমার্জেন্সির সামনে সক্রিয় থাকছে বলে আমার কাছে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। বাইরে থেকে আসা রোগীদের হাসপাতালের একাংশ ইচ্ছাকৃতভাবে হয়রানি করছে। সেই সুযোগ দালালরা কাজে লাগাচ্ছে। তারা নার্সিংহোমে রোগী নিয়ে গিয়ে মোটা টাকা পকেটে ভরছে। দুঃস্থ রোগীরা নাজেহাল হচ্ছেন।
কয়েকদিন আগে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক মহিলা দালাল রোগীর পরিবারের আত্মীয়দের মগজধোলাই করার চেষ্টা করছে। বেসরকারি নার্সিংহোমে রোগীকে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রভাবিত করছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, মাঝে বহুদিন দালালদের দৌরাত্ম্য কমেছিল। কিছুদিন ধরে রাতের দিকে ফের তারা সক্রিয় হয়েছে। এক রোগীর আত্মীয় বলেন, বহুদিন ধরেই মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পরিবারের লোকজনকে চিকিৎসার জন্য আনছি। সতর্ক না থাকলেই দালালদের খপ্পরে পড়তে হবে। ওরা রোগীর আত্মীয় সেজে ঘুরে বেড়ায়। দিনেরবেলা পুলিশের নজরদারি থাকে। অভিযোগ করলে সঙ্গে সঙ্গে তারা পদক্ষেপ নেয়। রাতের দিকে হাসপাতালে লোকজন কম থাকে। বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকলে ইমার্জেন্সির কাছে দালালরা হাজির হয়ে যায়। সরকারি হাসপাতালে ঠিকমতো চিকিৎসা হয় না বলে তারা রোগীর পরিবারের লোকজনকে বোঝাতে থাকে। ওইসময় রোগীর আত্মীয়রা সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। সেই সুযোগ দালালরা কাজে লাগায়। ভালো চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার নাম করে তারা রোগীদের নার্সিংহোম বা বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। রোগীর পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হলে তাঁরা বিপদে পড়ে যান। জমি বা সোনা বন্ধক রেখে নার্সিংহোমের বিল মেটাতে হয়।
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার তাপস ঘোষ বলেন, আমাদের কাছে অভিযোগ এলে তড়িঘড়ি ব্যবস্থা নিই। রোগীর কোনও সমস্যা হলে পরিবারের লোকজন যেন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।