দুর্গাপুরে ধনতেরসে সোনা ফেলে স্টিলের বাসন কিনছে মধ্যবিত্তরা
  • ৫ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, দুর্গাপুর: ধনতেরস মানেই সোনা-রুপোর গয়না কেনার ধুম। ধনলক্ষ্মীর আরাধনায় মূল্যবান ধাতু কেনাই রীতি। কিন্তু ইস্পাতের শহর দুর্গাপুরে ছবিটা কিছুটা আলাদা। সোনার আকাশছোঁয়া দামের কারণে ধনতেরসে বহু পরিবারের পছন্দ হয়ে উঠেছে স্টিলের বাসনপত্র। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনেই লক্ষ্মীলাভের আশা করছে শিল্পশহরের মধ্যবিত্ত।

Advertisement

দুর্গাপুরের অন্যতম ব্যস্ত বাজার বেনাচিতি থেকে স্টিল টাউনশিপের চণ্ডীদাস, বিভিন্ন এলাকার বাসনপত্রের দোকানে উৎসবের আগের দিন থেকেই ক্রেতাদের ভিড় চোখে পড়েছে। ঝকঝকে থালা, বাটি, গামলা, কড়াই, প্রেশার কুকার কিংবা ডিনার সেট, কেনাকাটার তালিকায় রয়েছে নানা সামগ্রী। বিশেষ করে ত্রিস্তরীয় স্টিলের বাসনপত্রের প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা।ভারী শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত দুর্গাপুরের সঙ্গে ইস্পাতের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। এখানকার বহু মানুষের জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে ইস্পাত কারখানা ও সংশ্লিষ্ট শিল্পের সঙ্গে। ফলে স্টিলের বাসনপত্রের প্রতি শহরবাসীর আকর্ষণ শুধু আর্থিক কারণেই নয়, তার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে আবেগও। তার উপর সোনার ক্রমবর্ধমান দামে সাধারণ পরিবারের বাজেট কমেছে। সেই পরিস্থিতিতে টেকসই ও ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী কেনার দিকেই ঝুঁকছেন অনেকে।
বেনাচিতির বাসন ব্যবসায়ী লোকনাথ বণিক রায় জানান, ‘গত কয়েক বছর ধরেই ধনতেরসে স্টিলের বাসনের চাহিদা বাড়ছে। এবার ছোটোখাটো সামগ্রীর পাশাপাশি ডিনার সেট, বড় পাত্র ও ত্রিস্তরীয় বাসনপত্রের বিক্রি বেড়েছে। প্রায় ৭% দাম বাড়লেও বাজারে ক্রেতাদের উৎসাহ রয়েছে।’
আরেক বাসন বিক্রেতা রাজ বণিকের কথায়, ‘সোনার দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ বিকল্প হিসেবে স্টিলের বাসন বেছে নিচ্ছেন। দাম তুলনামূলক কম, দীর্ঘস্থায়ী এবং সংসারের কাজে লাগে। এই প্রবণতা ব্যবসায় বাড়তি উৎসাহ জোগাচ্ছে।’গৃহবধূ মৌমিতা রায় বলেন, ‘সোনা কিনে তুলে রাখার চেয়ে পরিবারের সকলের কাজে লাগে এমন বাসন কেনাই বেশি জরুরি। ধনতেরসে সংসারের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি উৎসবের আনন্দও উপভোগ করছি।’অন্যদিকে, স্বর্ণালঙ্কারের দোকানগুলিতে ক্রেতাদের উপস্থিতি থাকলেও বড় কেনাকাটায় সতর্কতা স্পষ্ট। বেনাচিতির স্বর্ণ ব্যবসায়ী ছোটন দাস জানান, অনেকেই কম ওজনের গয়না কিনছেন। চন্ডীদাসের স্বর্ণ ব্যবসায়ী শিবু দত্তের কথায়, ‘ক্রেতারা আসছেন, তবে বড় গয়নার পরিবর্তে ছোট লকেট কিংবা নাকছাবির মতো সামগ্রীতেই আগ্রহ বেশি।’ সোনার দোকানে সীমিত বাজেটের কেনাকাটা, আর স্টিলের বাসনের বিপণিতে সংসার সাজানোর উৎসাহ, ধনতেরসে দুর্গাপুরের বাজারে ফুটে উঠেছে বদলে যাওয়া ক্রেতা-মনস্তত্ত্বের ছবি।