Bartaman Logo
২৫ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৪ মাস টাকা বন্ধ! ধারে সম্ভব নয় মিড ডে মিল, দিশাহারা রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাভবন

সবজি থেকে ভূষিমাল, বাজারে সমস্ত জিনিসপত্রের দামই চড়া। আর তারমধ্যেই চারমাস ধরে বন্ধ মিড ডে মিলের টাকা!

৪ মাস টাকা বন্ধ! ধারে সম্ভব নয় মিড ডে মিল, দিশাহারা রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাভবন
  • ২৫ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

মণিরাজ ঘোষ, খড়্গপুর: সবজি থেকে ভূষিমাল, বাজারে সমস্ত জিনিসপত্রের দামই চড়া। আর তারমধ্যেই চারমাস ধরে বন্ধ মিড ডে মিলের টাকা! সমস্যায় পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলি। অথচ, এ নিয়ে কেউই উচ্চবাচ্য করছেন না। শেষমেশ চরম অসুবিধার মুখোমুখি হয়ে মুখ খুলতে বাধ্য বল মেদিনীপুর রামকৃষ্ণ মিশনের অধীন রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাভবন কর্তৃপক্ষ। সোমবার একরাশ ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাভবনের প্রধান শিক্ষক স্বামী দিব্যনিষ্ঠানন্দ মহারাজ। তিনি বলেন, ‘ধার করে আর মিড ডে মিল চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ছেলেদের ভালোভাবে খাওয়াতেও পারছি না। খুবই ব্যথিত আমরা।’ তিনি এও বলেন, ‘পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত আমাদের স্কুলে প্রায় ৫০০ পড়ুয়া। মূল্যবৃদ্ধির বাজারে এই বিপুল সংখ্যক ছাত্রদের কতদিন আর ধার করে খাওয়ানো সম্ভব! দয়া করে মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত হস্তক্ষেপ করুন।’

Advertisement

জেলার সব প্রাইমারি ও হাইস্কুলেই একই সমস্যা। মে মাস থেকে, অর্থাৎ নতুন সরকার গঠনের পর থেকেই মিড মে মিলের টাকা ঢোকেনি। ফলে দোকানে ধারদেনা করে কোনোমতে মিড ডে মিল চালাচ্ছে স্কুল কর্তৃপক্ষগুলি। এদিকে মূল্যবৃদ্ধির বাজারে ব্যবসায়ীরাও বেশিদিন ধার দিতে চাইছেন না বলে দাবি বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের। সম্প্রতি, ঘাটালের একটি স্কুলে এনিয়ে অশান্তিও হয়েছিল। এনিয়ে এবিপিটিএর জেলা সম্পাদক সন্দীপ ঘোষ বলেন, ‘হাইস্কুলগুলিতে তবুও নানা ফান্ড থেকে কিছুদিন চালানো সম্ভব হয়। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খুবই সমস্যা। আমরা শিক্ষকরাই নিজেদের পকেট থেকে টাকা দিয়ে আর দোকানে ধার করে চালাচ্ছি। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, অবিলম্বে মিড ডে মিলের অর্থ বরাদ্দ করতে হবে এবং এতদিনের বকেয়া মিটিয়ে দিতে হবে।’ স্কুলগুলির সমস্যার কথা মানছেন জেলা প্রশাসনের আধিকারিক থেকে আরএসএসের শিক্ষক সংগঠনের সদস্যরা। এবিআরএসএমের জেলা সম্পাদক বিশ্বজিৎ মণ্ডল বলেন, ‘আমরা প্রাথমিকের ডিআই, জেলার মিড ডে মিলের ইনচার্জের কাছে ডেপুটেশন দিয়েছি। ওঁরা আশ্বাস দিয়েছেন।’ সংগঠনের রাজ্য কমিটির সদস্য বিশ্বনাথ দাস বলেন, ‘জানি না কোথায় সমস্যা হচ্ছে! আশা করছি দ্রুত সমস্যা মিটবে।’
শুধু রামকৃষ্ণ মিশন বিদ্যাভবন বা জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিই নয়, টানা চারমাস ধরে মিড ডে মিলের টাকা বন্ধ থাকায়, সমস্যায় পড়েছেন হাইস্কুলগুলিও। মৌপাল দেশপ্রাণ বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক প্রসূনকুমার পড়িয়া, ভাদুতলা বিবেকানন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমিতেশ চৌধুরী প্রমুখ বলেন, ‘খুবই সমস্যার মধ্য দিয়ে মিড ডে মিল চালাচ্ছি। একাধিকবার প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। চলতি সপ্তাহে আমাদের সংগঠনের তরফেও স্মারকলিপি দেওয়া হবে জেলা প্রশাসনকে।’ শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী বলেন, ‘বেশকিছু জেলায় ইসকনকে মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে শুনছি। সরকারের উচিত দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে সমস্যার সমাধান করা।’ মেদিনীপুরের বিধায়ক শঙ্কর গুছাইত বলেন, ‘আশা করছি দ্রুত এই সমস্যা মিটে যাবে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ