সংবাদদাতা, হলদিয়া: মঙ্গলবার মহিষাদলের বাসুলিয়া গ্রামীণ হাসপাতালে হনুমান ঢুকে হুলুস্থুল কাণ্ড ঘটিয়েছে। মারমুখী ওই হনুমানের লম্ফঝম্ফে রীতিমতো আতঙ্ক ছড়ায় হাসপাতাল চত্বরে। ওই হনুমানের আক্রমণ থেকে রেহাই পাননি রোগী থেকে স্বাস্থ্যকর্মী কেউই। হনুমানের ভয়ে দৌড়োদৌড়ি শুরু করেন রোগী, নার্স, ডাক্তাররা। হামলায় গুরুতর জখম হয়েছে শেখ আকিম নামে দু’ বছরের এক শিশু। জখম হয়েছেন স্বাস্থ্যকর্মী পীযূষ পট্টনায়ক। ওই স্বাস্থ্যকর্মীকে চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, হাসপাতাল চত্বরে এবং আশপাশ এলাকায় সোমবার থেকে হনুমানের দল দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। তারা বিভিন্ন গাছে লুকিয়ে রয়েছে। আচমকা গাছ থেকে নেমে এসে হামলা চালাচ্ছে। এদিন সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ পর পর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর থেকে সবাই আতঙ্কে রয়েছি। আপাতত হাসপাতালের দরজা বন্ধ রেখে চিকিৎসা চলছে। তিনি বলেন, ওই শিশুটি মায়ের সঙ্গে ডাক্তারের কাছে এসেছিল। ওই সময়ে হাসপাতালের আউটডোরে দেড়শোর বেশি রোগী লাইনে ছিলেন। হঠাৎ একটি দলছুট হনুমান মারমুখী হয়ে তেড়ে এসে পর পর কামড়াতে শুরু করে। পঞ্চায়েত সমিতির স্বাস্থ্য কর্মাধ্যক্ষ তরুণ মণ্ডল বলেন, বনদপ্তরের লোকজন হনুমান ধরার চেষ্টা করছে। তবে খাঁচা নিয়ে নানা প্রলোভন দেখিয়েও হনুমানটিকে ধরা যায়নি। তিনি বলেন, মহিষাদল এলাকায় একটি হনুমানের দল বিভিন্ন গ্রামে গত দু’ মাস ধরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ওই দলে ৫-৬টি হনুমান রয়েছে। মাসখানেক আগে হনুমানের দল কাপাসএড়িয়া এলাকায় ৫-৬ দিন ধরে তাণ্ডব চালায়। হনুমানের আক্রমণে গুরুতর জখম হন ১০-১২ জন। চার-পাঁচদিনের চেষ্টায় মারমুখী হনুমানকে জালবন্দি করেছিলেন বনদপ্তরের কর্মীরা।-নিজস্ব চিত্র



