মুম্বই: ফল ঘোষণার পর পাঁচ দিন কেটে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন করতে পারল না মহাযুতি জোট। এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর বাসভবনে বৈঠক সারলেন একনাথ, দেবেন্দ্র এবং অজিত। রাত পর্যন্ত খবর, সব গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরই হাতে রাখতে চলেছে বিজেপি। বিধানসভার আসন সংখ্যার নিরিখে ৪৩ জন মন্ত্রী থাকতে পারবে মহারাষ্ট্র মন্ত্রিসভায়। জানা যাচ্ছে, এর অর্ধেকই থাকবে বিজেপির হাতে। এর মধ্যে থাকছে স্বরাষ্ট্র, অর্থের মতো গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরও। আসলে নিরঙ্কুশ গরিষ্ঠতা না পেলেও গরিষ্ঠতার বেশ কাছে পৌঁছেছে বিজেপি। তাই এবার শরিকদের গুরুত্ব কমিয়ে দিচ্ছে তারা। একনাথ সিন্ধের দলকে ১২টি দপ্তর দেওয়া হতে পারে। এরমধ্যে থাকছে নগরোন্নয়ন, পূর্ত এবং জলসম্পদের মতো দপ্তর। অপর শরিক অজিত পন্থী এনসিপিকে দেওয়া হবে ন’টি দপ্তর। একনাথ সিন্ধে যে মুখ্যমন্ত্রী থাকছেন না, তা একপ্রকার পরিষ্কার। বুধবার একনাথ বলেছিলেন, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে সিদ্ধান্ত নেবেন, তা তিনি সমর্থন করবেন। আর বৃহস্পতিবার একনাথের ছেলে সাংসদ শ্রীকান্ত সিন্ধে জানিয়েছেন ‘বাবা জোটধর্ম’ মেনে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এই নিয়ে এক্স হ্যান্ডলে শ্রীকান্ত লিখেছেন, ‘আমার বাবা এবং শিবসেনার প্রধানের জন্য আমি গর্বিত। ব্যক্তিগত উচ্চাকাঙ্ক্ষা সরিয়ে নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহর উপর আস্থা রেখে তিনি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।’ তবে এবার উপ মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতেও নারাজ একনাথ। সিন্ধে ঘনিষ্ঠ এক নেতা বৃহস্পতিবার বলেন, নতুন মন্ত্রিসভায় উপ মুখ্যমন্ত্রী হতে চাইছেন না বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী। তবে তিনি মন্ত্রিসভায় থাকবেন। সিন্ধেপন্থী শিবসেনার মুখপাত্র সঞ্জয় শিরসৎ বলেন, ‘একনাথ উপ মুখ্যমন্ত্রী হতে নারাজ। যিনি একবার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন, তাঁর আর উপ মুখ্যমন্ত্রী হওয়া মানায় না।’ এদিকে পরাজয়ের কারণ নিয়ে যথারীতি দোষারোপ চলছে মহা বিকাশ আঘাড়িতে। উদ্ধবপন্থী শিবসেনা নেতা আম্বাদাস দানভে বৃহস্পতিবার বলেছেন, ‘কংগ্রেসের অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসের খেসারত দিতে হচ্ছে আমাদের।’ তিনি বলেন, উদ্ধব থ্যাকারেকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরা উচিত ছিল জোটের। তাঁর কথায়, ‘লোকসভা ভোটের পর কংগ্রেস অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে পড়েছিল। সেভাবেই তারা মহারাষ্ট্রে আসন রফা নিয়ে আলোচনা চালায়। উদ্ধবজিকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে তুলে ধরলে এই অবস্থা হতো না।’



