Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬

মহারাষ্ট্রে আজই শপথ অনুষ্ঠান, মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে ধোঁয়াশা চলছেই

মহারাষ্ট্রে আজই শপথ অনুষ্ঠান, মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে ধোঁয়াশা চলছেই
  • ২৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
মুম্বই: সব হিসেব উল্টে দিয়ে মহারাষ্ট্রে ফের ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি, একনাথ সিন্ধের শিবসেনা ও অজিত পাওয়ারের এনসিপির ‘মহাযুতি’ জোট। সম্ভবত আজ, সোমবারই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। গত মন্ত্রিসভার সদস্য তথা সিন্ধে-সেনার নেতা দীপক কেসারকার জানিয়েছেন, আপাতত মুখ্যমন্ত্রী ও উপ মুখ্যমন্ত্রীরাই শপথ নেবেন। মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন, তা নিয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। যদিও মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে কে বসতে চলেছেন, তা নিয়েও ধোঁয়াশা অব্যাহত। এদিনই অজিত গোষ্ঠীর বিধায়কদের বৈঠকে অজিত পাওয়ারকে নেতা নির্বাচিত করা হয়েছে। বৈঠক হওয়ার কথা সিন্ধে শিবির ও বিজেপিরও। সোমবারই জোটের বৈঠকে ঠিক হবে মুখ্যমন্ত্রীর নাম।
Advertisement
একক বৃহত্তম দল হিসেবে ১৩২টি আসন পেয়েছে বিজেপি। তাই তাঁদের পাল্লাই ভারী। দেবেন্দ্র ফড়নবিশকে মুখ্যমন্ত্রী দেখতে চেয়ে ইতিমধ্যেই সরব হয়েছেন মহারাষ্ট্রের বিজেপি নেতাদের একাংশ। অন্যদিকে, দাবি ছাড়তে নারাজ সিন্ধে শিবিরও। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীকে ফের একবার কুর্সিতে দেখতে চাইছেন সিন্ধেপন্থীরা। যদিও মহাযুতির নেতারা প্রকাশ্যে বারবার বলছেন, মুখমন্ত্রিত্ব নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। ফড়নবিশ যেমন বলেছেন, ‘কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তা নিয়ে কোনও সমস্যা নেই। প্রথম দিন থেকেই ঠিক হয়ে আছে যে, নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর তিন দলের নেতারা একসঙ্গে বসে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করবেন।’
মহাযুতির অন্দরে মুখ্যমন্ত্রীর পদ নিয়ে যে সমস্যা নেই, তা বোঝানোর জন্য মুখ্যমন্ত্রী একনাথ সিন্ধের বাসভবনে যান দুই উপ মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ ও অজিত পাওয়ার। একসঙ্গে বসে তাঁরা একে অপরকে অভিনন্দন জানান। তবে তাঁরা যে চেয়ারে বসেছিলেন, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। সিন্ধে ও ফড়নবিশকে একই ধরনের হাইব্যাক চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায়। অন্যদিকে, অজিত ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রামদাস আটওয়ালে তুলনামূলক ছোট চেয়ারে বসেছিলেন। 
মহারাষ্ট্রে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি নিয়ে টানাপোড়েন নতুন নয়। ২০১৯ সালে এই পদ নিয়ে উদ্ধব থ্যাকারে ও তত্কালীন মুখ্যমন্ত্রী ফড়নবিশের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। যার জেরে অবিভক্ত শিবসেনা এনডিএ থেকে বেরিয়ে আসে। কংগ্রেস, অবিভক্ত এনসিপি এবং অবিভক্ত শিবসেনা মিলে তৈরি হয় মহাবিকাশ আঘাড়ি। ফড়নবিশকে সরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন উদ্ধব। কিন্তু ২০২২ সালে ফের পটপরিবর্তন! এবার অবিভক্ত শিবসেনার বিধায়কদের বড় অংশকে নিয়ে আলাদা দল গঠন করেন সিন্ধে। বিজেপির সঙ্গে হাত মিলিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। পরে অবিভক্ত এনসিপি থেকে বেরিয়ে এসে শাসক জোটে যোগ দেন অজিত পাওয়ারও। ফড়নবিশ ও অজিত এতদিন উপ মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলেছেন। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের মতে, বেশি আসন থাকা সত্ত্বেও সিন্ধেকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ দিয়েছিল বিজেপি। কিন্তু এবার একক বৃহত্তম দল হওয়ার পর তারা মুখ্যমন্ত্রীর পদ ছাড়বে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান রাজনৈতিক মহল। 
সম্পর্কিত সংবাদ