সংবাদদাতা, সিউড়ি: অনুমোদন মেলা সত্ত্বেও থমকে রয়েছে মহম্মদবাজার ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি মেনে গত ২০২৩ সালের মে মাস নাগাদ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং ৮০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন দেয় নবান্ন। কিন্তু জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ প্রয়োজনীয় জমি দিতে না পারায় উন্নয়নের কাজ থমকে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। বীরভূমের পাথর শিল্পাঞ্চল এলাকার কাছেই মহম্মদবাজারের এই প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এখনও টিনের চালাঘরে চলছে রোগীদের ওয়ার্ড। গ্রীষ্মকালে এই টিনের চালাঘরগুলি ফার্নেসের মতো গরম হয়ে ওঠে। কিন্তু বাম আমলে তৈরি সেই টিনের চালাঘর আর পাকা হয়নি। বর্তমানে মহম্মদবাজার ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের শয্যা সংখ্যা ৩০। তারমধ্যে প্রসূতি বিভাগে ১৫টি এবং সাধারণ বিভাগে ১৫টি শয্যা রয়েছে। শয্যার থেকে রোগীর সংখ্যা বেশি হয়ে গেলে একটি বেডে দু’ জন করেও রোগী রাখা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই হাসপাতালে বিপুল সংখ্যায় প্রসব হয়। ফলে পুরো মহিলা ওয়ার্ডই প্রসূতি বিভাগ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আর সাধারণ ওয়ার্ডে কাপড়ের আড়াল করে সেখানে পুরুষ ও মহিলাদের রাখা হয়।
Advertisement
উল্লেখ্য, মহম্মদবাজার ব্লকেই রয়েছে দেউচা পাচামি পাথর শিল্পাঞ্চল। বর্তমানে সেখানে তৈরি হচ্ছে নতুন কয়লা খনি। ফলে আগামী দিনে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রর উপর চাপ বাড়বে। তাই এই হাসপাতালের পরিকাঠামোগত উন্নয়ন খুবই প্রয়োজনীয় বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সাঁইথিয়ার বিধায়ক নীলাবতী সাহা এবং সাংসদ শতাব্দী রায় আবেদন জানিয়ে এই হাসপাতালকে ৮০ শয্যার করার অনুমোদন আদায় করেছেন। সেই অনুযায়ী ওই হাসপাতাল চত্বরে জমি শনাক্ত করা হয়েছে। তার নকশা ও অন্যান্য বিষয় ইতিমধ্যেই চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু ওই নকশার মধ্যে থাকা স্বাস্থ্যকর্মীদের চারটি পুরনো আবাসন থাকায় সম্পূর্ণ জমি হাসপাতালের জন্য উপযুক্ত করে তুলতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। দ্রুত এই আবাসনে বসবাসকারী স্বাস্থ্যকর্মীদের সেটি খালি করার নির্দেশও দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই জমি সম্পূর্ণভাবে পেলে পরবর্তী কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। কিন্তু গত দেড় বছর ধরে সেই কাজ না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের।



