সংবাদদাতা, কালিয়াচক: হাড়হিম করা দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল কালিয়াচক। যা দেখে শিউরে উঠেছেন অনেকেই। স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, কালিয়াচক থানা এলাকার যদুপুরে নিজের বাড়ির সামনেই দাঁড়িয়ে ছিলেন ৬০ বছরের বৃদ্ধা টগর সাহা। ঠিক তখনই ১১২ নং জাতীয় সড়কের ওপর দিয়ে মালদহের দিক থেকে কালিয়াচকের পথে প্রচণ্ড গতিতে ছুটে আসে একটি চারচাকা। বৃদ্ধাকে ধাক্কা মারলে তাঁর পরনের শাড়ি আটকে যায় বনেটে। স্থানীয়দের দাবি, ওই অবস্থাতেই গাড়িটি প্রায় চার কিমি চালিয়ে টগরকে ছেঁচড়ে নিয়ে যান চালক। প্রত্যক্ষদর্শীদের কথায়, বৃদ্ধার বাড়ি যদুপুরে। কিন্তু গাড়ি তাকে টেনে নিয়ে গিয়েছিল কালিয়াচক চৌরঙ্গী সংলগ্ন একটি হোটেলের সামনে পর্যন্ত। প্রত্যক্ষদর্শী মহিবুর রহমান বলেন, রবিবার রাত আনুমানিক ৮টা নাগাদ দেখি হোটেলের সামনে চারচাকা থেকে একজন নেমে বনেটে লেগে থাকা কিছু একটা বের করে গাড়িটি নিয়ে দ্রুত চলে গেল। প্রথমে ভেবেছিলাম চাকায় হয়তো কিছু আটকে গিয়েছিল, সেটাই খুলল। কিন্তু আশেপাশের লোকজন চিৎকার শুরু করতে গিয়ে দেখি মহিলা রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছেন। এরপর স্থানীয়রা তড়িঘড়ি তাঁকে সিলামপুর হাসপাতালে নিয়ে যান। যদুপুরের বাসিন্দা রুহুল শেখের বক্তব্য, মহিলাকে ধাক্কা মারা মাত্রই কোনওভাবে শাড়ি আটকে যায়। আমার কাছে বাইক ছিল না। একজন বাইক চালিয়ে আসছে দেখে তাকে থামিয়ে গাড়িটি ধাওয়া করি। কিন্তু প্রচণ্ড গতি থাকায় আটকাতে পারিনি। পরে জানতে পারি ওই গাড়ি চৌরঙ্গী এলাকায় পাওয়া গিয়েছে। এরপরই ফোনে মহিলার ছেলে পেশায় ব্যাঙ্ককর্মী কৃষ্ণ সাহাকে খবর দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ফোনে একজন বিষয়টি জানান। দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে দেখি মায়ের রক্তাক্ত অবস্থা। চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বিষয়টি থানায় লিখিতভাবে জানিয়েছি। কালিয়াচক থানার পুলিস জানিয়েছে, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে গাড়িটির সন্ধান চালানোর চেষ্টা চলছে।



