সংবাদদাতা, লালবাগ: মাঝে একটি কংক্রিটের দেওয়াল। তার একপাশে দুর্গামন্দির, অপর পাশে দরগা। মুর্শিদাবাদ শহরের গোলাপবাগ জনমঙ্গল সেবা সমিতির দুর্গাপুজো সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দেয়। গোলাপবাগের পুজোকে ঘিরে হিন্দু-মুসলমান দুই সম্প্রদায়ের মানুষ উৎসবে মেতে ওঠেন। এবছর গোলাপবাগের দুর্গাপুজোর ৪৮তম বর্ষ। জোরকদমে পুজোর প্রস্তুতি চলছে।
আয়োজকরা জানান, এবার পুজোর থিম ‘বর্তমান প্রজন্মের কাছে বিদ্যাসাগরের প্রাসঙ্গিকতা’। এই থিমকে সামনে রেখে নারীশিক্ষা, বাল্যবিবাহ রোধ, বিধবা বিবাহ প্রচলন প্রভৃতি বিষয়ে বিদ্যাসাগরের অগ্রণী ভূমিকা তুলে ধরা হবে। মূল মন্দিরে সাবেকি দুর্গাপ্রতিমার পুজো করা হবে।
চতুর্থীতে পুজো উদ্বোধনের পর দর্শনার্থীরা মণ্ডপে ঢুকতে পারবেন। সপ্তমীর সকালে ঢাক-ঢোল সহযোগে শতাধিক পুরুষ ও মহিলা শোভাযাত্রা করে ভাগীরথীতে ঘট ভরতে যাবেন। সপ্তমী থেকে নবমী-এই তিনদিন সন্ধ্যার পর থেকে মণ্ডপে প্রসাদ বিতরণ করা হবে। প্রতিবছরের মতো এবারও গোলাপবাগ সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির উদ্যোগে দশভুজার আরাধনাকে কেন্দ্র করে ভোগের বিশাল আয়োজন করা হয়েছে।
দুর্গোৎসব কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনুপ সাহা বলেন, লালবাগে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিতে সহাবস্থান করে আসছেন। এখানে কখনও দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে কোনও বিবাদ হয়নি। আমরা দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের উৎসবে অংশ নিয়ে থাকি। পুজোর চারদিন দুই সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন। এবারও তার প্রস্তুতি চলছে। আশা করছি, আমাদের দুর্গাপুজো দর্শনার্থীদের মন জয় করে নেবে। নিজস্ব চিত্র