সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বাবা-মা ভিনরাজ্যে কাজ করেন। দাদুর বাড়িতেই থাকে ১৩ বছরের কিশোরী। দাদুর সঙ্গে দেখা করতে জমিতে যাওয়ার জন্য জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে একাই যাচ্ছিল সে। এক ব্যক্তি তাকে তুলে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে হাত, পা, মুখ বেঁধে যৌন নির্যাতন করল। এমন বিষয় নজরে আসে শ্রমিকদের। তাঁরা হাতেনাতে ধরে ফেলেন অভিযুক্তকে।
সোমবার বিকেলে এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় বালুরঘাট শহর লাগোয়া একটি গ্রামে। স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দিলে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। থানায় ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছে কিশোরীর পরিবার। দক্ষিণ দিনাজপুর পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল বলেন, অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্ত চলছে।
গ্রাম পঞ্চায়েতের স্থানীয় সদস্য সঞ্জয় দাস বলেন, অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। আমরা জানতে পেরে পুলিশের খবর দিয়েছিলাম। কিশোরীর দিদার কথায়, নাতনি একটু মানসিক ভারসাম্যহীন। তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে। ওই শ্রমিকরা দেখতে না পেলে কী হত জানি না। অভিযুক্ত ধরা পড়ে টাকা দিয়ে মিটমাটের প্রস্তাব দিয়েছিল। বলেছিল তিন হাজার টাকা নিবি, নাকি চার হাজার? আমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। অভিযুক্তের কঠোর শাস্তি হোক।
পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্তর নাম গৌর দাস। বয়স ৪৮ বছর। ওই এলাকাতেই বাড়ি অভিযুক্তের। দুপুর এবং বিকেলের দিকে প্রায় ফাঁকা থাকে সেই এলাকা। আগে থেকেই নাবালিকার উপর নজর রেখেছিল অভিযুক্ত। মদ্যপ অবস্থায় কিশোরীকে একা পেয়ে তুলে নিয়ে যায় সে। চিৎকার করলে পোশাক খুলে বেঁধে দেওয়া হয় মুখ। স্থানীয়রা ধরতে গেলে মারধর করার চেষ্টাও করেছিল অভিযুক্ত। কিশোরীকে উদ্ধার করে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়েছে।