Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মেদিনীপুর: ‘ভিন রাজ্যে গিয়েও বাংলাই বলব’, অকপট বড় বাড়ুয়ার ঢাকি সমাজ

যে যাই বলুক, ভিনরাজ্যে গিয়ে বাংলা ভাষাতেই কথা বলব। দুর্গাপুজো শুরুর আগে এভাবেই হুঙ্কার দিচ্ছেন মেদিনীপুর সদর ব্লকের বড় বাড়ুয়ার ঢাকিগ্রামের বাসিন্দারা।

মেদিনীপুর: ‘ভিন রাজ্যে গিয়েও বাংলাই বলব’, অকপট বড় বাড়ুয়ার ঢাকি সমাজ
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: যে যাই বলুক, ভিনরাজ্যে গিয়ে বাংলা ভাষাতেই কথা বলব। দুর্গাপুজো শুরুর আগে এভাবেই হুঙ্কার দিচ্ছেন মেদিনীপুর সদর ব্লকের বড় বাড়ুয়ার ঢাকিগ্রামের বাসিন্দারা। জানা গিয়েছে, এবছর মেদিনীপুর সদর ব্লকের বড় বাড়ুয়া থেকে চারজন ঢাকি হায়দরাবাদ যাচ্ছেন। এছাড়া গ্রামের একশো শতাংশ ঢাকি বউনি পেয়েছেন। তাই দুর্গাপুজো শুরুর আগেই গ্রামবাসীরা উৎসবে মেতে উঠেছেন। ইতিমধ্যেই পুজোয় বাড়তি আয়ের আশায় বুক বাঁধতে শুরু করেছেন ঢাকিরা। তাঁরা বলেন, ভিনরাজ্যে বাংলায় কথা বললে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবে আমরা নিজের ভাষাতেই কথা বলব। পাশাপাশি, এই পাড়ার বেশিরভাগ মানুষ ঢাক বাজিয়ে সংসার চালান। এই গ্রামের বাসিন্দারা পুজোর চারটি দিনের জন্য অপেক্ষা করে থাকেন। এই সময় বাড়তি বকশিস পাওয়া যায়। একইসঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের তরফে রাস্তার সংস্কার করায় খুবই উপকার হয়েছে। এছাড়া, গ্রামে পানীয় জলের প্রকল্প চালু হওয়ায় বাড়তি সুবিধা হচ্ছে। আগে রাস্তার সমস্যা থাকায় গ্রামে কেউ আসতে পারতেন না।

Advertisement

কালিন্দী পাড়ার ঢাকি গণেশ কালিন্দী, রঞ্জন কালিন্দী, অভিজিৎ কালিন্দী বলেন, জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পুজো কমিটিগুলি বুকিং করে ফেলেছে। ঢাক বাজানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। চারজনের একটি দল হায়দরাবাদ যাচ্ছে। ওখানে গিয়ে যে যাই বলুক, বাংলা ভাষাতেই কথা বলব।
প্রসঙ্গত, বাড়ুয়া এলাকায় বংশপরম্পরায় ঢাকিরা থাকেন। তাঁরা বছরের পর বছর ধরে ঢাক বাজিয়ে আসছেন। বর্তমানে এই এলাকায়  প্রায় কমবেশি ৪০টি ঢাকি পরিবার রয়েছে। সারা বছর অন্যান্য কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও তাঁরা পুজোর এই চারদিনের অপেক্ষায় থাকেন। মেদিনীপুর ছাড়াও আশপাশের রাজ্য থেকে বায়না আসে। এইসময় একসঙ্গে অনেক বেশি পরিমাণে টাকা রোজগার হয়। জানা গিয়েছে, ওই গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ চাষবাস করেন না। মূলত বাঁশের বিভিন্ন সামগ্রী তৈরি করাই তাঁদের পেশা। তার সঙ্গে সিজিনে তাঁরা ঢাক বাজান। গ্রামবাসীদের কথায়, গ্রামীণ এলাকার পুজোয় বায়না খুব বেশি হয় না। গ্রামের দিকে বড় মাপের পুজোর সংখ্যা শহরের তুলনায় অনেকটাই কম। তাই দুগ্গাপুজোয় শহরই একমাত্র ভরসা। তাছাড়া, সারা বছর ধরে বিভিন্ন পুজোয় ঢাক বাজিয়ে যে রোজগার হয়, তাতে কোনওমতে পেট চলে। শুধু ঢাকিরা নয়, গ্রামের কাঁসর শিল্পীরাও বাড়তি আয়ের আশায় বুক বাঁধেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই এলাকার ঢাকিরা মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে যাবেন। তাঁরা ভিনরাজ্যে যেতে ১৫-২০ হাজার টাকা নিয়ে থাকেন। এছাড়া কাছাকাছি এলাকার ক্ষেত্রে ৮-১০ হাজার টাকা নেন। গ্রামের খুদে সদস্যরাও বিভিন্ন এলাকায় বাজনা বাজাতে যায়। তবে ঢাক সারাই করতে খরচ অনেকটাই বেড়ে যাওয়ায় কিছুটা সমস্যায় পড়েছে ঢাকিরা।
ঢাকি লক্ষ্মীকান্ত কালিন্দী বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে উপকার হয়। এবছর বিশ্বকর্মা পুজোতেও ভালো বায়না হয়েছে। দিনভর প্র্যাকটিস চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ